হরমুজ়ের অদূরে অপেক্ষারত জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত।
হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল শুক্রবারই। শনিবার আবার হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ শুরু করার কথা ঘোষণা করল তেহরান! ইরানের সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, আমেরিকা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। মার্কিন নৌবহর ইরানের বিভিন্ন বন্দর এবং সেখান থেকে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির ওপর নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই হরমুজ় প্রণালী আবার অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘পূর্ণ শক্তিতে নৌ অবরোধ’ চালিয়ে যাবেন বলে শুক্রবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তেহরানকে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার হরমুজ়ে অবরোধ শুরুর কথা ঘোষণা করে মোজ়তবা খামেনেইয়ের দেশ। ইরানের সামরিক কমান্ড শনিবার বিবৃতিতে বলেছে, “যতক্ষণ না ইরানে আগত সকল জাহাজের চলাচলের স্বাধীনতা আমেরিকা দিচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।’’
প্রসঙ্গত, লেবানন-ইজ়রায়েল সংঘর্ষবিরতির পর শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়ে দেন, হরমুজ় প্রণালী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে তার মেয়াদ অবশ্য সংঘর্ষবিরতি পর্যন্তই। আরাঘচি জানান, লেবাননে আর যে ক’দিন যুদ্ধবিরতি চলবে, সেই দিনগুলিতে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে সব বাণিজ্যিক জাহাজ। প্রাথমিক ভাবে ইরানের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন, ‘‘পৃথিবীর জন্য একটা দারুণ দিন এল।’’ কিন্তু তার পরেই তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার লেনদেন ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ না-হওয়া পর্যন্ত হরমুজ় ঘিরে অবরোধ চলবে। ট্রাম্পের এই শর্তে ক্ষুব্ধ ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ শুক্রবার জানিয়েছিলেন, হরমুজ় তাঁরা ফের বন্ধ করে দিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত সেই পথেই হাঁটল তেহরান। তাদের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে আশঙ্কা।