কাতারে আমেরিকার রেডার ব্যবস্থা এফপিএস-১৩২। ছবি: সংগৃহীত।
উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী রেডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ইরান বাহিনীকে উদ্ধৃত করে তেহরান টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এএন/এফপিএস-১৩২ রেডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই রেডার ব্যবস্থাটি কাতারে রয়েছে। যার রেঞ্জ ৫০০০ কিলোমিটার। যদিও আমেরিকার তরফে এই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান বাহিনীর দাবি, ওই অঞ্চলে আকাশসীমায় কোনও ক্ষেপণাস্ত্র এলেই সেটিকে চিহ্নিত করে সতর্ক করে দিত এই রেডার ব্যবস্থা। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল এই রেডারের কারণে অনেকটাই সুরক্ষিত ছিল। কিন্তু এ বার সেই ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দেওয়ার দাবি করে ইরানের হুঁশিয়ারি, আগামী দিনে আরও জোরালো হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে মহুর্মুহু হামলা চালাচ্ছে ইরান। ২৮টিরও বেশি মার্কিন সেনাঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে আগেই দাবি করেছিল তারা। এ বার দাবি করল, মার্কিন প্রতিরক্ষার অন্যতম শক্তিশালী রেডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে তারা।
প্রসঙ্গত, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এফপিএস ১৩২ রেডার অপরিহার্য। কারণ, অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে, সময়ের সঙ্গে ‘শত্রু’পক্ষের কোনও ড্রোন, রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্রকে সহজেই চিহ্নিত করে তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া-র প্রতিবেদন বলছে, এফপিএএস-১৩২ রেডারটি কাতারের আল উদেইদে মার্কিন বায়ুসেনাঘাঁটিতে রয়েছে। ২০১৩ সালে এই সেনাঘাঁটিতে রেডার ব্যবস্থাটিকে বসানো হয়েছিল।
অন্য দিকে, মঙ্গলবারই আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড পাল্টা দাবি করে, ওমান উপসাগরে ইরান নৌসেনার ১১টি জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উড়িয়ে দিয়েছে। ওই অঞ্চলে দশকের পর দশক ইরান ‘দাদাগিরি’ করত বলে দাবি আমেরিকার। শনিবার থেকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতে ওমান উপসাগরের ওই জাহাজগুলিকে নিশানা বানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড।
হামলার ভিডিয়ো ফুটেজও প্রকাশ করেছে সেন্টকম (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ইরানের রণতরী আইআরআইএস শহিদ বাঘেরি-কে লক্ষ্য করে হামলার সেই ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে সেন্টকম দাবি করেছে, ‘‘দু’দিন আগেও ওমান উপসাগরে ইরানের আধিপত্য ছিল। মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় সেই আধিপত্য শেষ করে দিয়েছি।