(বাঁ দিকে) আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা খামেনেই। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হুঁশিয়ারিকে কার্যত অগ্রাহ্য করেই সোমবার মোজতবার নাম প্রকাশ্যে এনেছে তেহরান। খামেনেই-পুত্রকে প্রশংসাতেও ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, মোজতবা হলেন ‘জানবাজ়’। পারসিক ভাষায় যার অর্থ হল, যিনি জীবন বাজি রেখেও লড়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ, মোজতবাকে তাঁর পিতার উত্তরসূরি হিসাবে বেছে নিয়ে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখারই বার্তা দিয়ে রাখল তেহরান।
মোজতবা যে ইরানের পরবর্তী ধর্মীয় নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন, সেই ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। রবিবার (স্থানীয় সময় অনুসারে) আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই খবর পৌঁছোয় হোয়াইট হাউসেও। একটি সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সবিস্তার কিছু বলতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি শুধু বলেন, “(ইরানে) কী হচ্ছে, আমরা তা দেথব।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় খামেনেইয়ের। তার পর থেকেই তাঁর উত্তরাধিকার কে পাবেন, কে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কুর্সিতে বসবেন, তা নিয়ে জল্পনা ছিল। একাধিক বার উঠে এসেছিল পুত্র মোজতবার নাম। তবে তেহরানের তরফে সোমবারের আগে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের তরফে লাগাতার হুমকি এসেছে। ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী রবিবার একটি বিবৃতিতে জানায়, খামেনেইয়ের কুর্সিতে যিনি বসবেন, তিনিই হবেন পরবর্তী নিশানা। যাঁরা ওই কুর্সিতে কাউকে বসানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদেরও হত্যা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইজ়রায়েল। ঘটনাচক্রে, তার পরের দিনই সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করে দিল ইরান।
সম্প্রতি খামেনেইয়ের উত্তরসূরির পদ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচনে আমেরিকার মতামতও নেওয়া প্রয়োজন। আমেরিকার সম্মতিতে কাউকে ওই পদে বসানো হলে ইরানের উন্নয়নের পক্ষে কাজ করবে হোয়াইট হাউস। তবে ট্রাম্পের দাবিকে আমল দিল না তেহরান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান আগেই বলে দিয়েছিলেন, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের যে স্বপ্ন ট্রাম্প দেখছেন, তা স্বপ্ন হয়েই থাকবে।