প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে কী ভাবে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিকে নিশানা বানাচ্ছিল ইরান, পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের মাঝে এই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছিল। আমেরিকাও সন্দেহ প্রকাশ করেছিল বিষয়টি নিয়ে। কী ভাবে তাদের সেনাঘাঁটিগুলিকে চিহ্নিত করছে ইরান? সেই সময় চিনা উপগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও,তা নিয়ে খুব একটা নিশ্চিত ছিল না আমেরিকা। সম্প্রতি ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিতে হামলা চালানোর জন্য চিনের উপগ্রহকেই কাজে লাগিয়েছিল ইরান।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছর ধরে গোপনে চিনের উপগ্রহগুলিকে ব্যবহার করছে ইরান। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলির উপর নজরদারি চালাতে চিনের উপগ্রহের উপর বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে তারা। সামরিক সংঘাত শুরু হতেই সেই উপগ্রহের মাধ্যমে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিকে চিহ্নিত করে ইরান। আর তার পরই নিখুঁত ভাবে নিশানা করে সেগুলিকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের টিটিই-০১বি উপগ্রহকে এই নজরদারির জন্য কাজে লাগিয়েছিল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোর-এর অ্যারোস্পেস ফোর্স। এই উপগ্রহটি তৈরি করেছে চিনা সংস্থা আর্থ আই। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে চলেছে চিন। যদিও চিন সেই তথ্যকে খণ্ডন করেছে। তবে সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই আমেরিকা হুঁশিয়ারি দেয়, ইরানকে যেন কোনও রকম অস্ত্র সরবরাহ না করা হয়। সেই জল্পনার মধ্যেই আবার প্রকাশ্যে এল চিনা উপগ্রহ ব্যবহারের তথ্যটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ইরানের। চিন তাদের উপগ্রহ ব্যবহারের অনুমতিও দিয়েছে ইরানকে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩, ১৪ এবং ১৫ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বায়ুসেনাঘাঁটির ছবি তোলা হয়েছিল চিনা উপগ্রহকে কাজে লাগিয়ে। তার পর পরই প্রিন্স সুলতান বায়ুসেনাঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। জর্ডনের মুয়াফ্ফক সলতি বায়ুসেনাঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। এ ছাড়াও কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ইরান।