(বাঁ দিক থেকে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির। —ফাইল চিত্র।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকাকে ফের সতর্ক করে দিল ইরান। জানিয়ে দিল, তারা নিজেদের অধিকারের বিষয়ে কোনও আপস করবে না। ফের যুদ্ধ শুরু করলে তা আমেরিকার বোকামি হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। আমেরিকা-ইরানের মধ্যে সমঝোতা করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। সেই উদ্দেশ্যেই তেহরানে গিয়েছেন পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির। সমঝোতার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান মহম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে শনিবার বৈঠক হয় মুনিরের। রয়টার্স জানাচ্ছে, ওই বৈঠকেই পাকিস্তানের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে ইরান।
গত ফেব্রুয়ারির শেষে আমেরিকা এবং ইরানের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। ক্রমে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় এক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এখন আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি। কূটনৈতিক পথে সমাধানসূত্র বেরিয়ে না-এলে, বা ইরান চুক্তিতে রাজি না-হলে নতুন করে তেহরানে হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অবস্থায় ইরানও জানিয়ে রাখল, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তারা নিজেদের সামরিক বাহিনীর ক্ষমতাকে আবার আগের মতো করে নিয়েছে।
আমেরিকা যাতে নতুন করে হামলার কথা না ভাবে, সে বিষয়েও পাক সেনা সর্বাধিনায়ক মুনিরকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান গালিবাফ। মুনিরকে তিনি বলেন, “আমেরিকা যদি নির্বোধের মতো ফের যুদ্ধ শুরু করে, তার পরিণতি হবে আরও বিধ্বংসী, আরও ভয়ঙ্কর।” উল্লেখ্য, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে শুরু থেকেই দৌত্য করে যাচ্ছে পাকিস্তান। দু’দেশের প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদে মুখোমুখি আলোচনাতেও বসিয়েছিল পাকিস্তান। শাহবাজ় শরিফের সরকারের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদের হোটেলে প্রায় ২০ ঘণ্টা বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু সদর্থক কোনও সমাধানসূত্র তা থেকে বেরিয়ে আসেনি। এ বার ট্রাম্প নতুন করে ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় আবার শান্তিপ্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করতে সক্রিয় হয়েছে পাকিস্তান।