Iran-US Ceasefire

যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়বে! আমেরিকা ও ইরানের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে দাবি মার্কিন সেন্টকমের প্রাক্তন প্রধানের

প্রসঙ্গত, দু’দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর প্রথম দফার বৈঠকের আয়োজন হয় ইসলামাবাদে। কিন্তু সেই বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। তার মধ্যেই বুধবার শেষ হচ্ছে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩০
Share:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল চিত্র।

ইরান এবং আমেরিকার দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হচ্ছে বুধবার। কিন্তু তার আগেই মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রাক্তন প্রধান ডেভিড এইচ পেট্রিয়াস দাবি করলেন, আশা করা হচ্ছে দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়বে। দুই দেশই পারস্পরিক আলোচনায় আগ্রহী বলেও দাবি পেট্রিয়াসের।

Advertisement

ইসলামাবাদে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। বেশ কয়েকটি বিষয়ে ইরান আমেরিকার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সেই বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে বলে দাবি আমেরিকার। যদিও ইরান তখন পাল্টা দাবি করে, আমেরিকার সদিচ্ছার অভাবেই বৈঠক শেষ মুহূর্তে অমীমাংসিত থেকে গিয়েছে। তার পর থেকেই আবার দু’দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। আমেরিকাও পাল্টা হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করার পথে হেঁটেছে। এখনও সেই অবরোধ চলছে।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করছে। ফলে তারা আশা প্রকাশ করেছে, দ্বিতীয় দফার এই বৈঠক ফলপ্রসূ হবে। বৈঠকের এখনও দিন ক্ষণ স্থির হয়নি। তার মধ্যেই ইরান জানিয়ে দিয়েছে যে, বৈঠকে তারা বসতে রাজি নয়। সোমবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইলি বাকাই জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে তাঁরা বসবেন কি না, তা এখনও স্থির হয়নি। তবে ইরান পার্লেমেন্টের স্পিকার আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, হুমকির মুখে রেখে আলোচনার টেবিলে তাঁদের বসানো যাবে না। ফলে বৈঠক নিয়ে সংশয় বাড়ছেই।

Advertisement

তার মধ্যেই বুধবার যুদ্ধবিরতি শেষ হতে চলেছে। ফলে পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকে নজর আন্তর্জাতিক মহলের। তবে পাকিস্তান আশাবাদী যে, দু’দেশকে সমঝোতা বৈঠকের টেবিলে বসাতে পারবে তারা।

প্রসঙ্গত, দু’দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর প্রথম দফার বৈঠকের আয়োজন হয় ইসলামাবাদে। কিন্তু সেই বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি তাঁদের রাস্তা থেকে সরে না আসে, তা হলে আবার হামলা শুরু হবে। তাঁকে তখন সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেছিলেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হলে, তার সময়সীমা কি বাড়ানো হবে? সে প্রসঙ্গে স্পষ্ট কোনও জবাব না দিলেও ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ওই সময় তিনি কোন ‘মুডে’ থাকবেন, তার উপর সব নির্ভর করছে। যুদ্ধবিরতি শেষ হলে কী পদক্ষেপ করবেন, সে বিষয়ে কিন্তু স্পষ্ট কোনও বার্তা দেননি। ফলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটা সংশয় থেকেই গিয়েছে।

Advertisement

সেই সংশয় এবং বৈঠকের অনিশ্চয়তার আবহে মার্কিন সেন্টকমের প্রাক্তন প্রধান সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের কাছে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করলেন, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়তে পারে। দু’দেশই আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে আমেরিকার এখন দু’টি লক্ষ্য। এক, হরমুজ় থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আলগা করা। দুই, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানে হাত থেকে নেওয়া। তবে দু’টিই যে তাদের পক্ষে আদায় করা সহজ হবে না, তা স্পষ্ট। কারণ, ইরানকে দেওয়া আমেরিকার ১০ দফা শর্তের প্রধান ছিল, এই দু’টিই। আর প্রথম দফার বৈঠক আটকে যায়, এই দু’টি শর্তেই। দ্বিতীয় দফার বৈঠক হলে এই দু’টি বিষয়ই উঠে আসবে। ফলে বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়েও সংশয় বাড়ছে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিতে পারেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। বৈঠকে তিনিই আমেরিকার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফলে বৈঠক নিয়ে আশার পারদ চড়ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement