মার্কিন সেনা হুঁশিয়ারি তেলবাহী জাহাজকে। ফিরে যাওয়ার নির্দেশ। প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
দূরে দেখা যাচ্ছে জাহাজ। হেলিকপ্টার থেকে সেই জাহাজের দিকে তাক করা বন্দুক। জাহাজটিকে লক্ষ্য করে বারবার বার্তা যাচ্ছে মার্কিন সেনার তরফে, পালানোর চেষ্টা করলে গুলি করা হবে। ইরানের নৌবন্দরের কাছাকাছি একটি পণ্যবাহী জাহাজকে দেখা যেতেই মার্কিন সেনার তরফে সতর্ক করা হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর তরফে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয় (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
মার্কিন সেনার হেলিকপ্টার থেকে রেডিয়ো বার্তায় বারবার সতর্ক করা হয়, জাহাজ নিষিদ্ধ সীমানার মধ্যে প্রবেশ করছে। এখনই জাহাজের মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া হোক। কোনও জাহাজ ইরান নৌবন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বা ওই নিষিদ্ধ এলাকা দিয়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলেই বাধার মুখে পড়তে হবে। মার্কিন সেনার সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তার পরই দেখা যায়, জাহাজটি মুখ ঘুরিয়ে নেয়। হরমুজ় প্রণালীতে যে দিক থেকে এসেছিল, সে দিকেই রওনা দেয়।
সেন্টকম-এর তরফে দাবি করা হয়েছে, ইরান বন্দরগামী এবং বন্দর থেকে যে সব জাহাজ বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, এ রকম ২৭টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু হরমুজ় প্রণালী আমেরিকা অবরুদ্ধ করেছে, তাই আপাতত কোনও জাহাজ ইরান থেকে বার হতে পারছে না। আবার ইরানের বন্দরেও কোনও জাহাজকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, হরমুজ় প্রণালীর দু’পাশে এমন ভাবে অবরুদ্ধ করা হয়েছে যে, পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে। যদিও ইরান হরমুজ়ের একাংশ খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। কিন্তু আমেরিকা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ইরানের বন্দরে কোনও জাহাজকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। দুই বিবদমান দেশ আলাদা আলাদা ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে অবরুদ্ধ করায় উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জটিলতা আরও বেড়েছে। ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হবে কি না তা নিয়েও সংশয় ক্রমশ বাড়ছে। যদিও পাকিস্তান আশাবাদী আমেরিকা এবং ইরানের দ্বিতীয় দফার বৈঠক হবে।