—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে আরও এক বার সতর্ক করল ইরান। তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, যদি ইরানের দক্ষিণ উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালায়, তবে তার ফল ভুগতে হবে। ইরানের হুঁশিয়ারি, হামলার পাল্টা জবাব হিসাবে পারস্য উপসাগর জুড়ে মাইন পাতা হবে। তার মধ্যে থাকবে নৌ-মাইনও।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সে দেশের প্রতিরক্ষা পরিষদ জানিয়েছে, যে কোনও হামলার জবাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথগুলি ‘অবরুদ্ধ’ করে দেওয়া হবে। পাতা হবে মাইন। এই পদক্ষেপকে ‘প্রতিষ্ঠিত সামরিক নীতি’ বলে উল্লেখ করেছে তেহরান।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এমনিতেই আংশিক ‘অবরুদ্ধ’ হরমুজ় প্রণালী। ফলে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। অনেক দেশেরই পণ্যবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে সমুদ্রপথে। বাকিদের জন্য জলপথ খুলে দিতে আগ্রহী হলেও আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে এই ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান। হরমুজ় প্রণালীর পর এ বার পারস্য উপসাগরও ‘বন্ধ’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
ইরানের প্রতিরক্ষা পরিষদ সতর্ক করেছে, পারস্য উপসাগর বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর। সেই করিডরে মাইন পাতা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। ইরান আরও জানিয়েছে, এ ধরনের মাইন সহজে অপসারণ করা সম্ভব হবে না। তাদের কথায়, ‘‘১৯৮০-র দশকে পাতা সামুদ্রিক মাইন অপসারণের ব্যর্থতার কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’’
হরমুজ় প্রণালী সচল রাখার জন্য নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। দিন দু’য়েক আগে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যদি তারা হরমুজ় প্রণালী খুলে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। সেই ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবারই। তবে পাল্টা জবাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরানও। তারা জানিয়েছে, আমেরিকা যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে আক্রমণ করে, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিও নিশানা করা হবে। তেহরানের কথায়, ‘‘আমেরিকা যদি ইরানের শক্তি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালায়, আমরাও চুপ করে বসে থাকব না। পশ্চিম এশিয়ায় ওদের যত তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, শক্তিকেন্দ্র, পানীয় জল শোধনকেন্দ্র আছে, সেগুলিকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।’’ এর পর এ বার পারস্য উপসাগর ‘অবরুদ্ধ’ করার হুঁশিয়ারি দিল ইরান।