গুঁড়িয়ে যাওয়ার আগে বিজয়-তোরণ। পালমিরায়।– ফাইল চিত্র।
সিরিয়ায় ধ্বংস হয়ে গেল আরও একটি দুর্লভ ঐতিহাসিক স্থান। পালমিরায় দু’হাজার বছরের পুরনো একটি ‘ওয়ার্ন্ড হেরিটেজ সাইট’ গুঁড়িয়ে দিল ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা।
প্রথম বা, দ্বিতীয় শতকে, আদ্যোপান্ত ‘গ্রেকো-রোমান’ ভাস্কর্যের আদলে বানানো হয়েছিল ‘দ্য আর্ক অফ ট্রায়াম্ফ’ বা, বিজয়-তোরণ। যাকে ‘ইউনেস্কো’ বলেছে, সুপ্রাচীন সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি কেন্দ্র।
গত মে মাসে উত্তর সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমিরার দখল নেওয়ার পর সেখানকার দু’টি প্রাচীন মন্দিরও গুঁড়িয়ে দিয়েছিল আইএস জঙ্গিরা। পালমিরা শহরে রোমান ভাস্কর্য-রীতিতে গড়া এক হাজারেরও বেশি স্তম্ভ ও মিনার আর পাঁচশোরও বেশি গম্বুজ রয়েছে। আইএসের তরফে মহম্মদ হাসান আল-হোমসি আজ জানিয়েছেন, ‘‘ওই ঐতিহাসিক বিজয়-তোরণটি ধ্বংস করা হয়েছে। দেরি না-করে পালমিরায় আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক স্তম্ভ, মিনার, মূর্তি ও মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। কারণ, আইএস মনে করে, ওই সব কিছুই আসলে ‘পুতুল-পুজো’র নিদর্শন।’’ একটি মানবাধিকার সংগঠন- সিরিয়ান অবজার্ভেটারি ফর হিউম্যান রাইট্স-ও পালমিরায় বিজয়-তোরণ ধ্বংস হওয়ার কথা জানিয়েছে। সিরিয়া সরকারের প্রত্নসামগ্রী দফতরের প্রধান মামুন আবদুল করিম এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘‘এখন মনে হচ্ছে, আইএস জঙ্গিদের হাতে সিরিয়ায় প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের সব কিছুই শেষ হয়ে যাবে।’’ আইএস জঙ্গিদের হাত থেকে সিরিয়ার প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলিকে বাঁচাতে অন্য দেশগুলির সাহায্য চেয়েছেন ‘ইউনেস্কো’র ডিরেক্টর জেনারেল ইরিনা বোকোভা।