আইডিএফ-এর প্রকাশ করা সেই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরানের বহু জায়গা। ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে হামলার প্রথম ছবি এবং ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ করল ইজ়রায়েল (যদিও সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ইজ়রায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছে। সেই ভিডিয়ো শেয়ার করে ইজ়রায়েল দাবি করেছে, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ইরানের বহু জায়গা। প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে ইরানে একের পর এক হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল।
আইডিএফ দাবি করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের দফতর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ধ্বংসাবশেষের সেই ফুটেজ প্রকাশ করেছে আইডিএফ। যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকটি ইমারত গুঁড়িয়ে গিয়েছে, কালো ধোঁয়ায় ঢাকা চারদিক।
বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে হামলা চালাতে দূরপাল্লার ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র টোমাহক ব্যবহার করেছে মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি সেনা। এই ক্ষেপণাস্ত্র রণতরী থেকে ছোড়া হয়। খুব নিচু দিয়ে উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে। ৩০-৩৫ মিটার উচ্চতা দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র যায়। ফলে রেডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজে এটিকে চিহ্নিত করতে পারে না। এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন ১৬০০ কেজি। ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে। ১৬০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁত ভাবে নিশানা করতে পারে টোমাহক।
এ ছাড়াও জিবিইউ ২৮ ‘বাঙ্কার বাস্টার’ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি। বলা হয়, এটি আমেরিকার অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা। মাটির ২০০ ফুট নীচে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে চিহ্নিত করে তা ধুলিসাৎ করে দিতে সক্ষম। এক একটি বোমার ওজন প্রায় ১৪ হাজার কেজি। মার্কিন বায়ুসেনার এই অস্ত্র ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার অনায়াসে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। এই বোমাটি শক্তিশালী এবং অতি-সহনশীল ইস্পাতের আবরণে মোড়া। ফলে পাথর বা কংক্রিটের তৈরি ভূগর্ভস্থ কোনও পরিকাঠামোকে অনায়াসে ধ্বংস করতে পারে। ২৪০০ কেজি বিস্ফোরকে ঠাসা পেলোড বহন করতে সক্ষম এই বোমা। বোমার ওজন ১৩,৬০৭ কেজি। দৈর্ঘ্য ২০.৭ ফুট। আমেরিকার বায়ুসেনার মতে, এই বোমাটি জিপিএস-গাইডেড। এই বোমা ফেলার জন্য একমাত্র বি ২ স্পিরিট স্টেল্থ বোমারু বিমানই ব্যবহার করা হয়। সামরিক অভিযানের জন্য এক বারে একটি বা দু’টি এই বোমা বহন করতে পারে বি ২ বম্বার। বিএলইউ-১০৯ এবং জিবিইউ-২৮, এই দুই বোমার উত্তরসূরি জিবিইউ-৫৭ এমওপি।