Iran-Israel Situation

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে বিধ্বস্ত ইজ়রায়েলের ‘ছোট্ট ভারত’

ডিমোনা শহরে বসবাসকারী ইহুদিদের ৩০ শতাংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। একটি রিপোর্ট উল্লেখ, ৭৫০০ ভারতীয় বংশোদ্ভূতের বাস এই পরমাণু কেন্দ্রের শহরে। ফলে শহরের অলিতে-গলিতে জিলিপি, পাপড়ি চাট, ভেলপুরির সৌরভ।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৭:২৮
Share:

ডিমোনায় ইজ়রায়েলি সেনার উদ্ধারকাজ। ছবি: রয়টার্স।

শহরটির অলিগলিতে ঘুরলে পাওয়া যেত পাপড়ি চাট, ভেলপুরি, জিলিপির গন্ধ! শহরটির বহু মহল্লা, পাড়ায় দেখা যেত কলকাতা-সহ ভারতের বিভিন্ন শহরের উৎসব-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের ছোঁয়া! ডিমোনা— ইজ়রায়েলের মধ্যে এ যেন এক ‘ছোট্ট ভারত’ ছিল। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই শহর আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কারণ ডিমোনা শহরের প্রথম পরিচয় হল এটি ইজ়রায়েলের প্রধান পরমাণু ঘাঁটি।

ডিমোনা শহরে বসবাসকারী ইহুদিদের ৩০ শতাংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। একটি রিপোর্ট উল্লেখ, ৭৫০০ ভারতীয় বংশোদ্ভূতের বাস এই পরমাণু কেন্দ্রের শহরে। ফলে শহরের অলিতে-গলিতে জিলিপি, পাপড়ি চাট, ভেলপুরির সৌরভ। কোথাও বাংলার সংস্কৃতি, কোথাও আবার মরাঠি ভাষার কথোপকথন। নিয়ম করে এখানে প্রতি বছর নভেম্বরে আয়োজিত হয় ভারতীয় চলচ্চিত্রের উৎসব। ইতিহাসের পাতা উল্টালে জানা যায়, ইজ়রায়েল রাষ্ট্র গঠনের পরেই ভারত থেকে বহু ইহুদি এখানে চলে যান। মহারাষ্ট্রের কোঙ্কন এবং মুম্বই থেকে যাঁরা ডিমোনা গিয়েছিলেন, তাঁদের ভাষা মরাঠি। কেরলের কোচি থেকে অনেক ইহুদি বসতি স্থাপন করেন ডিমোনায়। আজও তাঁদের উত্তরসূরিরা নিয়ম মেনে ওনাম উৎসব উদ্‌যাপন করেন। আর রয়েছেন বাগদাদি ইহুদি। এঁরা ইরাকের বংশোদ্ভূত হলেও ব্রিটিশ আমলে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। পরে ইজ়রায়েলে চলে যান। সঙ্গে নিয়ে যান কলকাতার সংস্কৃতি ও জনপ্রিয় সব খাবার। আজও কলকাতার ধাঁচে দীপাবলি উৎসব উদ্‌যাপন করেন তাঁরা। এ ছাড়াও মিজ়োরাম ও মণিপুর থেকে বনেই মেনাশে সম্প্রদায়ের অনেকে ইজ়রায়েলে চলে যান।

এই ‘ছোট্ট ভারত’কেই পরমাণু গবেষণার প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ইজ়রায়েল বেছে নিয়েছিল ১৯৫৮ সালে। ফ্রান্সের সহায়তায় গড়ে ওঠে গোপন গবেষণা কেন্দ্র। এ বার সেই ঘাঁটি তেহরানের লক্ষ্যবস্তু। নাতানজ় পরমাণু কেন্দ্রে হামলার চালানোর পাল্টা হিসেবেই ডিমোনাকে নিশানা করেছে তারা। ইজ়রায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল। তবে তা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। দমকল বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, ডিমোনা ও আরাদ—দুই জায়গাতেই ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করা হয়েছিল, কিন্তু সেগুলি আটকাতে ব্যর্থ হয়। ফলে কয়েকশো কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেড বহনকারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি দু’টি জায়গায় আঘাত হানে। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ডিমোনার প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গুঁড়িয়ে গিয়েছে অনেক বহুতল। তবে পরমাণু কেন্দ্রগুলি সুরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি ইজ়রায়েলের। কোনও তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি। পর্যবেক্ষকেরা জানিয়েছেন, তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের অস্বাভাবিকতার কোনও চিহ্ন লক্ষ করা যায়নি। এ দিকে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ১৫০ জন বেয়ারশেবার সোরোকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে ইজ়রায়েল আর্মি রেডিয়ো।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন