আটক চিনা জাহাজ। ছবি: রয়টার্স।
তাইওয়ানকে ঘিরে চিনের সঙ্গে টানাপড়েনের আবহে এ বার পাল্টা পেশি প্রদর্শন করল জাপান। জাপানি উপকূলরক্ষীরা তাঁদের জলসীমায় ঢুকে পড়া একটি চিনা জাহাজকে আটক করেছেন। চিনের দাবি, মাছ ধরার ওই জাহাজটিতে ক্যাপ্টেন এবং ১০ জন অসামরিক নাগরিক ছিলেন।
টোকিয়ো জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমের নাগাসাকি প্রিফেকচারের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানের জলসীমায় ঢুকেছিল চিনা জাহাজটি। উপকূলরক্ষীরা তল্লাশির জন্য থামার নির্দেশ দেওয়ার পরেও তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করায় ক্যাপ্টেন-সহ সকলকে আটক করা হয়েছে। তবে তাতে সওয়ার চিনা নাগরিকেরা ‘অসামরিক’ বলে মেনে নিয়েছে জাপান। ২০২২ সালের পর এই প্রথম কোনও চিনা জলযান আটক করল জাপান।
দক্ষিণ চিন সাগর ঘিরে চিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছে ফিলিপিন্সের। ওই অঞ্চলে লালফৌজের দাপট প্রতিরোধ করতে এবং তাইওয়ানের নিরাপত্তার স্বার্থে ২০২৪ সালে সামরিক জোট ‘স্কোয়াড’ গঠন করেছে আমেরিকা। জাপান তার সদস্য। গত নভেম্বরে জাপানি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেছিলেন, চিন যদি তাইওয়ান কব্জা করার চেষ্টা করে তবে তাঁরা চুপ করে বসে থাকবেন না। এর পরেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সে সময় চিনা প্রতিরক্ষা দফতর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে নাক গলানো বন্ধ না করলে ‘ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপের’ মুখে পড়বে জাপান।
ওই ঘটনার জবাবে চিনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছিল টোকিয়ো। সেই উত্তেজনা প্রশমনে সে সময় হস্তক্ষেপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক বছর আগে তাইওয়ান সংলগ্ন জাপানি দ্বীপ সেনকাকুর নাম হঠাৎ করেই বদলে দিয়াওয়ু করে দিয়েছিল চিন। বেশ কয়েক বার তার জলসীমায় রণতরীও পাঠায় লালফৌজ। এই নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে টোকিয়ো বার বার অভিযোগ জানালেও, তাতে পাত্তা দেয়নি বেজিং। উল্টে অন্যায় ভাবে সংশ্লিষ্ট দ্বীপটি জাপান দখল করে রেখেছে বলে পাল্টা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সরকার। টানাপড়েনের এই আবহেই এ বার চিনা জলযান আটক করল জাপান।