Delhi Blast 2025

ভারতের নিশানায় হক্কানি নেটওয়ার্ক, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে দিল্লি বিস্ফোরণে জইশের নাম থাকায় সন্তুষ্ট নয়াদিল্লি

ভারতে সন্ত্রাস চালাতে আইকিউআইএস এ বার ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ নামে নতুন একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী তৈরি করেছে বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৫
Share:

দিল্লি বিস্ফোরণ। —ফাইল চিত্র।

দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণকাণ্ডে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) নিযুক্ত পর্যবেক্ষক দলের রিপোর্টে স্পষ্ট ভাষায় এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। রিপোর্ট প্রকাশের পরেই ভারতের তরফে স্বাগত জানানো হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের কমিটিকে।

Advertisement

ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণবীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি যে তারা (নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষক দল) আমাদের দেওয়া তথ্য গ্রহণ করেছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসের বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইকে কী ভাবে শক্তিশালী করা যায় সে সম্পর্কে ভারতের অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়েছে।’’ নিরাপত্তা পরিষদের আল কায়দা, আইএস নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ১২৬৭ কমিটির নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দলের ৩৭তম রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘‘একটি সদস্যরাষ্ট্র উল্লেখ করেছিল যে, জইশ-ই-মহম্মদ একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। ৯ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লায় হামলার সঙ্গেও এটি জড়িত বলে জানা গিয়েছে। ওই সন্ত্রাসবাদী হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছিলেন।’’

শুধু জইশ নয়, আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশের শাখা আইকিউআইএস-এর তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জওসওয়াল। তাঁর দাবি, ওই সংগঠনের দুই শীর্ষনেতা, ‘আমির’ ওসামা মাহমুদ এবং তাঁর সহকারী ইয়াহিয়া ঘোরি আফগান তালিবানের হক্কানি নেটওয়ার্কের সহায়তায় সে দেশে আত্মগোপন করে আছেন। অতীতে আফগানিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের উপর দু’বার হামলা চালিয়েছিল হক্কানি নেটওয়ার্ক। ওই গোষ্ঠীর প্রধান সিরাজুদ্দিন বর্তমানে আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু পাকপন্থী ওই নেতা বর্তমানে তালিবানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে কোণঠাসা বলে কয়েকটি খবরে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতে সন্ত্রাস চালাতে আইকিউআইএস এ বার ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ নামে নতুন একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী তৈরি করেছে বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর।

Advertisement

১২৬৭ কমিটির রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে ৮ অক্টোবর, জইশ নেতা মাসুদ আজহার আলভি আনুষ্ঠানিক ভাবে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য একটি শাখা, জামাত-উল-মোমিনিন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী হামলাকে সমর্থন করা। ঘটনাচক্রে, দিল্লির লালকেল্লার বাইরে বিস্ফোরণের ঠিক আগের দিন লখনউ থেকে গ্রেফতার হন এক মহিলা চিকিৎসক। নাম শাহিন সিদ্দিকি। তাঁর সঙ্গে জইশের যোগাযোগ ইতিমধ্যেই এনআইএ তদন্তে উঠে এসেছে। প্রসঙ্গত, বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত তথা গাড়িবোমা-সহ আত্মঘাতী চিকিৎসক উমর উন নবি-সহ প্রায় সব অভিযুক্তের সঙ্গে কোনও ভাবে হরিয়ানার আল ফালাহ্‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগসূত্র উঠে এসেছে। সেখানে জইশের গতিবিধির ‘তথ্যপ্রমাণ’ মিলেছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement