গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পাকিস্তানে সমঝোতার বৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তিনি শনিবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিট (ভারতীয় সময়) নাগাদ ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। সূত্রের খবর, তাঁর সঙ্গে কথা বলতে নাছোড়বান্দা ছিল ইরান। বলা হয়েছিল, আমেরিকা থেকে আলোচনার জন্য আর কোনও নেতা আসুন বা না-আসুন, ভান্সকে আসতেই হবে পাকিস্তানে। ভান্স না-এলে ইরানের কেউ সমঝোতার বৈঠকে যোগ দেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ট্রাম্প প্রতিনিধিদলের প্রধান করে পাঠিয়েছেন।
মার্কিন কূটনীতিকদের মতে, ভান্সকে সমঝোতা বৈঠকের দায়িত্ব দেওয়ার নেপথ্যে অন্য অঙ্ক আছে ট্রাম্পের। ইরানের তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাওয়ার নেপথ্যেও কারণ রয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টে দাবি, ইরানের অনেকের কাছেই আমেরিকার একমাত্র গ্রহণযোগ্য মুখ এখন ভান্স। তাঁকেই তাঁরা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠবৃত্তের একমাত্র যুদ্ধবিরোধী বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, একমাত্র ভান্সই যুদ্ধ না করে কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে আগ্রহী। তাই তাঁকে আলোচনায় রাখার দাবি জানায় ইরান।
ভান্সের সঙ্গে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফের কথা হবে। ইরান থেকে ৭০ জনের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে গিয়েছে। ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ভান্স ওয়াশিংটন থেকে জানান, তিনি পাকিস্তানে আয়োজিত বৈঠক সম্পর্কে আশাবাদী। তবে ইরান যদি খেলতে চায়, তবে ফল ভাল হবে না। প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রেখেছেন ভান্স। ১৯৭৯ সালের পর এটাই হতে চলেছে আমেরিকা এবং ইরানের নেতাদের প্রথম সরকারি মুখোমুখি বৈঠক।
চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পের সঙ্গেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন ভান্স। অনেকের মতে, তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত এত গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়নি। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বৈঠককেই ভান্সের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন অনেকে। এই কূটনীতিতে তিনি সফল হলে বিশ্ব রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব বাড়বে।