জেফ্রি এপস্টিন। —ফাইল চিত্র।
যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের নতুন কেচ্ছার খবর প্রকাশ্যে এল। মার্কিন বিচার দফতরের প্রকাশিত নথি খতিয়ে দেখা গিয়েছে, একটি অদ্ভুত পরিকল্পনা থেকে বহু সন্তানের জনক হতে চেয়েছিলেন তিনি। আর এই কাজে এপস্টিনের পরীক্ষাগার ছিল আমেরিকার নিউ মেক্সিকোয় তাঁর প্রাসাদটি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এপস্টিন বিশ্বে ‘উন্নত একটি জাতি’ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আর সেই কাজে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন নিজের ঔরসকে। তাঁর ঔরসে বহু নারী উন্নত জাতির সন্তানদের জন্ম দেবে— এমনটাই ছিল এপস্টিনের ইচ্ছা। প্রতিবেদন অনুসারে, এই পরিকল্পনার কথা নিজের ঘনিষ্ঠদেরও জানিয়েছিলেন এপস্টিন।
যদিও এপস্টিনের এই পরিকল্পনা শেষমেশ কার্যকর হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে বিভিন্ন তথ্যসূত্র উল্লেখ করে ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’-এর প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন এপস্টিন। এপস্টিন ফাইলে প্রকাশিত নথি থেকে এই ইঙ্গিতও মিলেছে যে, নিজের মেধা এবং বুদ্ধির উপর প্রগাঢ় আস্থা ছিল এপস্টিনের। বৌদ্ধিক চর্চায় নিজেকে যুক্ত করতেও চেয়েছিলেন তিনি। এই কারণে বিভিন্ন গবেষণার কাজে অর্থ ঢেলেছিলেন এপস্টিন। ইতিমধ্যেই এপস্টিনের সঙ্গে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, চিন্তাবিদ নোয়াম চমস্কি, মনস্তত্ত্ববিদ স্টিভেন পিঙ্কার, জিন বিশেষজ্ঞ এম চার্চের ‘ঘনিষ্ঠতার খবর’ প্রকাশ্যে এসেছে।
এপস্টিন ফাইলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, নিউ মেক্সিকোর প্রাসাদে বহু তরুণীকে নিজের সন্তানের জননী করতে চেয়েছিলেন এপস্টিন। ওই ফাইলে থাকা একটি ডায়েরিতে এক মহিলার বয়ান লেখা রয়েছে। সেখানে ওই মহিলার দাবি, নিউ মেক্সিকোর ওই প্রাসাদে তিনি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেই নাকি তাঁর সন্তানকে কেড়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন এপস্টিনের দীর্ঘ দিনের সঙ্গী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে।