Venezuela Crisis

‘ভেনেজ়ুয়েলায় হামলা বেআইনি’! সুর চড়ছে খাস আমেরিকাতেই, সরব কমলা থেকে মামদানিরা

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করছেন ডেমোক্র্যাটরা। তাঁদের নেত্রী কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। শুধু একা হ্যারিস নন, নিউ ইয়র্কের মেয়র জ়োহরান মামদানিও নিন্দা করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৬
Share:

ভেনেজ়ুয়েলায় হামলার নিন্দায় কমলা হ্যারিস থেকে জ়োহরান মামদানিরা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনা কি উচিত হয়েছে আমেরিকার? বিশ্ব জুড়ে এখন এই প্রশ্নই উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু দেশ বা রিপাবলিকান অথবা ট্রাম্পের সমর্থক ছাড়া প্রায় কেউই মার্কিন অভিযানকে ভাল ভাবে দেখছেন না! শুধু বিদেশে নয়, আমেরিকার মধ্যেও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা চলছে। শিকাগো, ওয়াশিংটনের রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন হাজার হাজার আমেরিকান। প্রতিবাদের স্বর তীব্র হচ্ছে। তবে আবার কোথাও কোথাও উচ্ছ্বাসও দেখা গিয়েছে।

Advertisement

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করছেন ডেমোক্র্যাটরা। তাঁদের নেত্রী কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। আমেরিকার প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট মনে করেন, ‘‘ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কখনওই আমেরিকাকে সুরক্ষিত বা শক্তিশালী করবে না।’’ তাঁর মতে, মাদুরোকে স্বৈরাচারী, নিষ্ঠুর, অবৈধ শাসক বলে কখনোই ট্রাম্প এ ধরনের হামলায় যুক্তি খাড়া করতে পারেন না!

শুধু একা হ্যারিস নন, নিউ ইয়র্কের মেয়র জ়োহরান মামদানিও নিন্দা করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের। তাঁর দাবি, ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এ ভাবে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা শুধু বিদেশে বসবাসকারীদের উপরেই নয়, বরং নিউ ইয়র্কের বাসিন্দাদের উপরেও প্রভাব ফেলবে! নিউ ইয়র্কে হাজার হাজার ভেনেজ়ুয়েলাবাসী বাস করেন। তবে এ-ও জানান, তাঁর প্রশাসন নিউ ইয়র্কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং জোর দেবে নিরাপত্তার উপর।

Advertisement

কেন ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে মাদুরোকে অপহরণ করালেন ট্রাম্প? আমেরিকার দাবি, ভেনেজ়ুয়েলা থেকে অপরাধীরা অবৈধ ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করে। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য মাদুরোকে সরানো প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়া, মাদুরোর বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। তবে অনেকের মতে, ভেনেজ়ুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তৈলভান্ডার। এই দেশের সংরক্ষণে রয়েছে ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল। সেই তৈলভান্ডারের দিকে নজর রয়েছে ট্রাম্পের। সেই বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন আমেরিকায় রাস্তায় নামা প্রতিবাদীরা। শিকাগো এবং ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় মার্কিন সেনার অভিযানের বিরুদ্ধে যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁদের অনেকের মুখেই তেল সংক্রান্ত স্লোগান শোনা গিয়েছে। কেউ বলছিলেন, ‘‘তেলের জন্য রক্ত চাই না’’, কেউ আবার বলছিলেন, ‘‘ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকার যুদ্ধ চাই না’’। শিকাগোর ফেডেরাল প্লাজ়ার সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের এক জন চিৎকার করে বলেন, ‘‘দক্ষিণ আমেরিকার উপর থেকে হাত তুলে নাও।’’

উল্লেখ্য, ভেনেজ়ুয়েলায় ট্রাম্প যে অভিযান চালিয়েছেন, আমেরিকানেরা তার জন্য সম্মতি দেয়নি। কোনও ভোটাভুটি নয়। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তার জন্য আমেরিকার নাগরিকেরা অনেকেই ক্ষুব্ধ। বিক্ষোভকারীদের একাংশের মতে, ভেনেজ়ুয়েলায় যদি সামরিক শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত রাখেন ট্রাম্প, তবে বিক্ষোভের আঁচ আরও বাড়বে। আমেরিকার কিছু জায়গায় এই ‘হামলা’ উদ্‌যাপন করতেও দেখা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারও কারও শরীর পেঁচিয়ে রয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার পতাকা!

(এই প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশের সময় লেখা হয়েছিল ভেনেজ়ুয়েলা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তৈলভান্ডার। সেটি ভুল। ভেনেজ়ুয়েলা বৃহত্তম তৈলভান্ডার, যেখানে বিশ্বের মোট সংরক্ষিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ রয়েছে। অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির জন্য আমরা আন্তরিক দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement