মুহাম্মদ ইউনূস। —ফাইল চিত্র।
অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার পর এক বছর পর্যন্ত নিজেকে ‘ভিভিআইপি’ অর্থাৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে ঘোষণা করে গিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস! ওই এক বছর বাংলাদেশের স্পেশ্যাল সিকিউরিটি ফোর্স— এসএএসএফের নিরাপত্তা পাবেন তিনি। দেশের সাধারণ নির্বাচনের দু’দিন আগে তৎকালীন অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ওই মর্মে গেজ়েট জারি করে গিয়েছেন বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। ১০ ফেব্রুয়ারি একটি গেজ়েট বিজ্ঞপ্তি জারি করেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ পান্না। তাতে বলা হয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছাড়ার পর এক বছর পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা পাবেন ইউনূস।
রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকার প্রধানের পাশাপাশি সরকারি গেজ়েটে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে অন্য কোনও ব্যক্তিকেও ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসাবে অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু সেই আইনে বিদায়ী সরকারের প্রধানদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয় না। তা ছাড়া স্বচ্ছতার স্বার্থে ওই গেজ়েট সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তবেই সেটি সর্বসাধারণের জন্য প্রামাণ্য নথি হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু গেজ়েট ওয়েবসাইটে প্রকাশ না-হলে তার কার্যকারিতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠে কি না, সেটা আবার সংশ্লিষ্ট দফতর বিচার করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সরকারি প্রেসের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আবু ইউসুফ। ইউনূসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গেজ়েট বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তারেক সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম লিখেছে, “যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশ থাকে যে এটি প্রকাশ করা যাবে না, তা হলে আমরা ওয়েবসাইটে দিই না।” অর্থাৎ, গোপনীয়তার স্বার্থে কোনও গেজ়েট অনলাইনে প্রকাশ না-করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, ভিভিআইপি হিসাবে ঘোষিত ব্যক্তির বাসভবন ও কর্মস্থলে এসএসএফ নিরাপত্তা থাকে। দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রক সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেয়। শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ইউনূস ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তাঁকে প্রধান উপদেষ্টা করে সরকার গঠন করা হয়েছিল। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছাড়েন।