Aung San Suu Kyi

সু চি-কে নিয়ে চিন্তায় ছেলে

২০২১ সালে মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন নেত্রী সু চি। বন্দি করা হয় তাঁকে। অসংখ্য দুর্নীতির মামলা দায়ের হয় সু চি-র বিরুদ্ধে। দ্রুত ‘বিচার’ হয়ে দীর্ঘ কারাবাস হয় তাঁর।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ০৬:২৫
Share:

আউং সান সু চি। —ফাইল চিত্র।

জেল থেকে মুক্তি পেলেন মায়ানমারের প্রাক্তন নেত্রী, নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী আউং সান সু চি। তবে পুরোপুরি মুক্তি নয়। মায়ানমারের সামরিক নেতা সরকারি সংবাদমাধ্যম মারফত জানিয়েছে, গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হবে সু চি-কে। বাকি সাজার মেয়াদ তিনি সেখান থেকেই কাটাবেন।

২০২১ সালে মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন নেত্রী সু চি। বন্দি করা হয় তাঁকে। অসংখ্য দুর্নীতির মামলা দায়ের হয় সু চি-র বিরুদ্ধে। দ্রুত ‘বিচার’ হয়ে দীর্ঘ কারাবাস হয় তাঁর। সেই থেকে সেনার কারাগারে (সম্ভবত রাজধানী নেপিদও-এ) বন্দি ৮০ বছর বয়সি সু চি। সেনা অভ্যুত্থান যাঁর নেতৃত্বে ঘটেছিল, সেই নেতা মিন আউং হায়িং বলেন, ‘‘ওঁর বাসস্থান থেকেই উনি বাকি সাজা ভোগ করবেন।’’

২০১৫ সালে মায়ানমারের তৎকালীন শাসক গণতান্ত্রিক সংস্কার আনে দেশে। এ সময়ে ক্ষমতায় আসেন সু চি। এর আগেও সেনা-শাসন ছিল মায়ানমারে। সু চি তখনও দশকের পর দশক ধরে গণতন্ত্রকামী সমাজকর্মী হিসেবে লড়াই চালিয়েছিলেন। তখনও ১৫ বছরের বেশি গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন তিনি।

এ দিন সরকারি সংবাদমাধ্যমে সু চি-র একটি ছবি সম্প্রচার করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, দু’জন ইউনিফর্ম পরিহিত আধিকারিকের সামনে বসে রয়েছেন তিনি। সু চি-র ছেলে কিম আরিসের যদিও সন্দেহ রয়েছে ওই ছবি ও সেনার ঘোষণা নিয়ে। তাঁর আশঙ্কা আদৌ মা বেঁচে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে। তাঁর দাবি, ‘‘ওই ছবির কোনও অর্থ হয় না। ছবিটি ২০২২ সালে তোলা হয়েছিল। আমার আশা, সবটা সত্যি। যদিও আমার কাছে সত্যিকারের কোনও প্রমাণ নেই, যা দেখিয়ে বলতে পারব মাকে সত্যিই বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।’’ আরিসের কথায়, ‘‘যত ক্ষণ না ওরা মায়ের সঙ্গে আমাকে কথা বলতে দিচ্ছে বা অন্য কোনও পরিচিত ব্যক্তি মায়ের শরীর-স্বাস্থ্য, তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন সে বিষয়ে আমাকে খবর দিচ্ছেন, আমি কিছু বিশ্বাস করছি না।’’ এর আগে সু চি-র ছবি শেষ বার দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালে।

সু চি-কে জেল থেকে গৃহবন্দি দশায় স্থানান্তরিত করার কথা ঘোষণা করলেও মায়ানমারের সেনাবাহিনী তাঁর শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু জানায়নি। গত ডিসেম্বর মাসেই আরিস সমস্ত ক্ষোভ ও আশঙ্কা উগরে দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলির কাছে জানিয়েছিলেন, বহু বছর হয়ে গেল তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা হয় না। সু চি-র আইনজীবীরাও তিন বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এ দিন তাঁর আইনজীবী দলটি জানিয়েছে, তাদের কাছে সু চি-কে গৃহবন্দি করার খবর সরাসরি ভাবে আসেনি। তবে তাঁরা ঠিক করেছেন, সু চি-কে বাড়িতে পাঠানো হলে তাঁরা দেখা করতে যাবেন।

মায়ানমারের হায়িংয়ের এমন আচমকা মত পরিবর্তনের আড়ালে অনেকেই রাজনৈতিক কৌশল দেখতে পাচ্ছেন। কূটনীতিকদের একাংশের বক্তব্য, সু চি-র শাস্তি হয়তো আরও লঘু করে দেওয়া হবে। তাঁকে পুরোপুরি রেহাইও দেওয়া হতে পারে। হায়িং এই কাজ করছেন, কারণ তিনি এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছেন। বিশ্বে ‘একঘরে’ হয়ে থাকা পরিস্থিতি থেকে বেরোতে চাইছেন। বৃদ্ধা সু চি-কে রেহাই দিয়ে তাই ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টায় হায়িং।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন