নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। —ফাইল চিত্র।
বিতর্কিত লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে তিন দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইছেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। রবিবার নেপালের পার্লামেন্টে দুই বিরোধী সাংসদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন্দ্র জানান, তাঁরা লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানির মতো বিতর্কিত ভূখণ্ডের বিষয়ে ভারত, চিন এবং ব্রিটেনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে চান।
সরকারি মানচিত্রে কালী নদীর পূর্ব দিকে থাকা লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং পূর্ব কালাপানিকে সে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দেখিয়েছে নেপাল। তাই ভারত সরকারকে ওই অংশে রাস্তা নির্মাণ কিংবা সম্প্রসারণ কিংবা সীমান্তবাণিজ্য না-করার আর্জি জানিয়েছিল তারা। বিতর্কিত ওই এলাকা যে তাদেরই অংশ, তা চিনকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল কাঠমান্ডু। প্রসঙ্গত, নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির জমানাতেই ২০২০ সালের অগস্টের শেষপর্বে নেপাল সরকার প্রকাশিত ‘নতুন মানচিত্রে’ তিনটি বিতর্কিত এলাকা- লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও পূর্ব-কালাপানিকে তাদের ভূখণ্ড বলে দেখানো হয়েছিল।
রবিবার পার্লামেন্টে বিষয়টি উত্থাপন করেন নেপালের শ্রম সংস্কৃতি পার্টির সাংসদ আরেন রাই। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে বলেন্দ্র জানান, ভারত যেমন নেপালের জায়গা দখল করেছে, তেমনই নেপালও ভারতের জায়গা দখল করেছে। বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভারতের তরফে কী বার্তা এসেছে তা জানিয়ে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুই দেশের সরকার ইতিহাসবিদ, জমি মাপজোককারী এবং বিশেষজ্ঞদের একাংশকে নিয়ে একটি দল গঠন করবে।
বিষয়টির সঙ্গে চিন যুক্ত থাকায় বেজিঙের সঙ্গেও আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছেন বলেন্দ্র। যে লিপুলেখ গিরিপথকে নেপাল তাদের এলাকা বলে দাবি করছে, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী, সেই এলাকাটিকে তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকার ভারতের সঙ্গে নেপালের সীমান্তের পশ্চিম দিক বলে জানিয়েছিল। নেপালের সাম্প্রতিক দাবি সেই চুক্তির ভিত্তিতেই। এই যুক্তিতে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গেও কথা বলতে আগ্রহী কাঠমান্ডু।
নয়াদিল্লির যুক্তি, ১৯৫৪ সালে লিপুলেখ পাস ধরে ভারত এবং চিনের মধ্যে সীমান্তবাণিজ্য শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ সাড়ে ছ’দশক ধরে তা চলেছে। কোভিড এবং অন্য কয়েকটি কারণে ২০২০ সালের মধ্যপর্বে তা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। কালাপানি অঞ্চল নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য সেই ব্রিটিশ আমলেই, ১৮১৬ সালে। ওই বছর স্বাক্ষরিত হওয়া সুগৌলির সন্ধি অনুসারে, কালী নদী ভারত এবং নেপালের মধ্যে ভৌগোলিক সীমারেখা হিসাবে কাজ করবে। তবে এই নদীর উৎসস্থল নিয়েও মতান্তর রয়েছে। নেপালের দীর্ঘ দিনের দাবি, লিপুলেখের উত্তর-পশ্চিম দিকে লিম্পিয়াধুরা নদীটির উৎসস্থল। সেই হিসাবে জায়গাটি তাদের সীমান্তের মধ্যেই পড়ছে বলে মনে করে থাকে কাঠমান্ডু। ভারতের পাল্টা দাবি, কালী নদীর উৎপত্তিস্থল কালাপানি গ্রামের একটি প্রস্রবণ। আর সেই প্রস্রবণ উত্তরাখণ্ডের মধ্যে পড়ছে।