—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
প্রবল শীতেও জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) ওপারে সক্রিয় পাক ফৌজ। ক্রমাগত বাড়ছে সেনা সমাবেশ। মোতায়েন করা হচ্ছে একের পর এক ড্রোন বিধ্বংসী ইউনিট। সামরিক গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি, এলওসি-র ওপারে রাওয়ালকোট, কোটলি এবং ভিম্বর সেক্টরে ইতিমধ্যেই ‘কাউন্টার-আনম্যানড এয়ারিয়াল সিস্টেম’ (সি-ইউএএস)-এর নতুন ইউনিটগুলি স্থাপন করেছে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বাহিনী।
পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের বাহিনীর এই তৎপরতা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা তৈরি হয়েছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর শিক্ষা মাথায় রেখেই সীমান্তে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান মজবুত করতে চাইছে পাক সেনা। মুনিরের বাহিনী এলওসি বরাবর বরাবর ৩০ টিরও বেশি অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট মোতায়েন করেছে গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে ‘ইন্ডিয়া টুডে’তে প্রকাশিত খবরে দাবি, মুরিতে ১২তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দফতরের তত্ত্বাবধানে এবং কোটলি-ভিম্বরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৩তম পদাতিক ডিভিশনের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে ড্রোন মোতায়েনের দায়িত্বে রয়েছে। এই পদক্ষেপ অনুযায়ী এলওসি-র কাছাকাছি আকাশসীমায় নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা যাচাই করা পাক ফৌজের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
জম্মুর পুঞ্চে এলওসির ওপারে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে মোতায়েন পাক ফৌজের দ্বিতীয় আজাদ কাশ্মীর ব্রিগেড এই তৎপরতার মূল ভরকেন্দ্র। এ ছাড়া রাজৌরী-নওশেরা-সুন্দরবানীর উল্টোদিকে কোটলির তৃতীয় আজাদ কাশ্মীর ব্রিগেড এবং ভিম্বর সেক্টরটি সপ্তম আজাদ কাশ্মীর ব্রিগেড পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অদূরে চাকওয়ালের মুরিদ বিমানঘাঁটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ড্রোন বিধ্বংসী ইউনিটগুলি পরিচালনা করছে। প্রসঙ্গত, মুরিদ বিমানঘাঁটি হল পাক বায়ুসেনার ড্রোনবহরের সদর। এই বিমানঘাঁটিতে পাঁচটি ড্রোন স্কোয়াড্রনই ‘অপারেশন সিঁদুরে’র প্রথম তিন দিন ধরে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘন করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল বলে সেনা সূত্রের খবর। ভারতীয় ফৌজের প্রত্যাাঘাতে মুরিদের প্রধান ভবনটির প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছিল।