Pakistan Suicide Blast

ইসলামাবাদে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের পরে পাকিস্তানে গ্রেফতার তিন! ধৃতদের মধ্যে আছেন এক মহিলাও

বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃতদের নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি পাকিস্তানের পুলিশ। তবে জানা যাচ্ছে, পুলিশের হাতে ধরা পড়া তিন জনের মধ্যে দু’জন ওই আত্মঘাতী হামলাকারীর ভাই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৮
Share:

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুক্রবার বিস্ফোরণ হয় মসজিদে। ছবি: রয়টার্স।

ইসলামাবাদের মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় এ বার তিন জনকে গ্রেফতার করল পাকিস্তানের পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে এক জন মহিলাও রয়েছেন। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে আফগান সীমান্তবর্তী প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নমাজের সময়ে ইসলামাবাদের এক শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ হয়। তাতে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন কমপক্ষে ১৬৯ জন। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে অন্যতম বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা এটি। শুক্রবার ওই বিস্ফোরণের পর থেকেই পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান শুরু হয়। ওই অভিযানের সময়েই খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃতদের নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি পাকিস্তানের পুলিশ। তবে জানা যাচ্ছে, পুলিশের হাতে ধরা পড়া তিন জনের মধ্যে দু’জন ওই আত্মঘাতী হামলাকারীর ভাই। অপর এক মহিলার সঙ্গে হামলাকারীর কী যোগ, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তিন জনকেই জেরা করে তথ্যসংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পাকিস্তানি তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃতদের থেকে একটি পরিচয়পত্র পাওয়া গিয়েছে। সেই পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে পেরেছে পাক তদন্তকারী সংস্থা। জানা যাচ্ছে, ইয়াসির নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার নমাজের সময়ে হামলা চালিয়েছিল মসজিদে।

Advertisement

পাকিস্তানের সরকারি নথি অনুযায়ী, ইয়াসির পেশোয়ারেরই বাসিন্দা। সেখানেই আব্বাস কলোনি এলাকায় তাঁর স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে। তবে হামলার আগে তিনি থাকতেন পেশোয়ারের গঞ্জ মহল্লা কাজ়িয়া এলাকায়। পাকিস্তানি তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আত্মঘাতী বিস্ফোরণের আগে ওই হামলাকারী আফগানিস্তানেও গিয়েছিলেন। সেখানে প্রায় মাস পাঁচেক ছিলেন তিনি। আফগানিস্তানের মাটিতেই ইয়াসিরের অস্ত্র প্রশিক্ষণ হয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের।

শুক্রবার ইসলামাবাদের মসজিদে কেন এই হামলা চলল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে হামলা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইম্‌সের প্রতিবেদনে দাবি, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট্‌স (আইএস)। যদিও তাদের আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি। সন্ত্রাসবাদবিরোধী সংগঠন এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের দাবি, ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইম্‌সকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, হামলাকারী পাকিস্তানি নাগরিক। তবে একাধিক বার আফগানিস্তানে যাতায়াত করেছিল সে। সেই প্রমাণ মিলেছে। গোটা ঘটনায় আফগান তালিবানের হাত দেখছে পাকিস্তান। দাবি, তালিবানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আসলে ভারতই এই হামলা পরিচালনা করেছে। যদিও বক্তব্যের সপক্ষে তারা কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। ভারত সরকার রাতেই পাকিস্তানের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement