পাকিস্তানে এক শিশুকে দেওয়া হচ্ছে টিকা। — ফাইল চিত্র।
২০২৫ সালের মে মাসের পরে ভারত থেকে কম দামে টিকার জোগান বন্ধ হয়েছে। তার প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে। এমনটাই দাবি করেছেন সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তাফা কামাল।
আগে গ্লোবাল অ্যালায়ান্স ফর ভ্যাক্সিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজ়েশন (জিএভিআই)-এর মাধ্যমে ভারত থেকে সস্তার টিকা নিত পাকিস্তান। এই সংগঠনটি গরিব দেশে শিশুদের টিকার ব্যবস্থা করে। অন্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলে সেই কাজটি করে তারা। এখন সস্তায় আর টিকা কিনতে পারছে না পাকিস্তান। বদলে বিভিন্ন দেশ থেকে তুলনায় দামি টিকা সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। কামাল জানিয়েছেন, এখন বছরে পাকিস্তান প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার টিকা আমদানি করছে। তার মধ্যে ৪৯ শতাংশ খরচ জিএভিআইয়ের মাধ্যমে দিচ্ছে কোনও না কোনও আন্তর্জাতিক সংগঠন। বাকি ৫১ শতাংশ খরচ দিতে হচ্ছে পাকিস্তান সরকারকে। আর তাতেই চাপ পড়ছে তাদের রুগ্ন অর্থনীতিতে।
কামাল জানিয়েছেন, পাকিস্তানে টিকা উৎপাদন শুরু না হলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত টিকা আমদানির জন্য তাদের খরচ করতে হবে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ২০৩১ সালে বিদেশি সংগঠনগুলি টিকার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেবে। তার পরে সমস্যা আরও বাড়বে।
এতকাল ভারত থেকে কম দামে টিকা সংগ্রহ করত পাকিস্তান। কামাল জানিয়েছেন, জিএভিআইয়ের মাধ্যমেই সেই টিকা সংগ্রহ করা হত। অনুদানের ব্যবস্থাও তারাই করে দিত। অতিমারির সময় কোভিডের টিকাও ভারত থেকে পাকিস্তানকে সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছে এই জিএভিআই। সূত্রের খবর, দুই দেশের সম্পর্কে যখন টানাপড়েন ছিল, তখনও ভারত থেকেই টিকা সংগ্রহ করেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান সরকার এখন নাগরিকদের ১৩টি টিকা বিনামূল্যে দেয়। তার মধ্যে একটিও সে দেশে তৈরি হয় না। জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে পাকিস্তানের স্থান পঞ্চম। জনসংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি। প্রতি বছর প্রায় ৬২ লক্ষ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এই অবস্থায় সে দেশে এখনই টিকা উৎপাদন শুরু করা না গেলে সমস্যায় পড়তে হবে, একথা জানিয়েছেন খোদ মন্ত্রী কামাল। দেশে টিকা উৎপাদনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৫ জন। পাকিস্তান দায় স্বীকার না করলেও হামলার নেপথ্যে তাদের আশ্রিত জঙ্গিদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। ৭ মে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে সিঁদুর অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। তার পরেই ভারত থেকে আর পাকিস্তানে টিকার জোগান যাচ্ছে না। আর এতেই চাপে প্রতিবেশী দেশ।