পাক হানার পর বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। ছবি: রয়টার্স।
আকাশপথে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হানা দিল পাকিস্তান। তাদের হানায় ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জ়াইদি। সে দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টিভি-র তরফে আফগানিস্তানের কোথায় কোথায় হানা দেওয়া হয়েছে, তার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দু’পক্ষকেই সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস।
পাকিস্তানের তরফে হুঁশিয়ারির সুরে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তান ‘আগ্রাসন’ বন্ধ না-করলে সামরিক অভিযান চলবে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণমন্ত্রী মহসিন নকভি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “(পাকিস্তানকে) আক্রমণ করে আফগান তালিবান একটা ভয়ঙ্কর ভুল করে ফেলেছে। ওদের ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। আমরা আমাদের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করব না।”
পাক সেনা কাবুল লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় বহু সাধারণ মানুষও আহত হয়েছেন বলে খবর। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর তরফে প্রকাশিত ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কাবুলের একাধিক হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে। এই সংঘাতের জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে আফগানিস্তান। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জ়বিউল্লাহ মুজাহিদ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “ভীরু পাক সেনা কাবুল, কন্দহর, পাকটিকার কিছু এলাকায় বিমানহানা চালিয়েছে। ভাগ্যক্রমে কোনও মৃত্যুর খবর নেই।” কাবুলের দাবি, পাকিস্তানই প্রথমে আফগান সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানো শুরু করে।
ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ঘাজ়াব লিল হক’ নামের সামরিক অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। কাবুলের পর কন্দহরের আকাশেও পাক বায়ুসেনার বিমানকে দেখা গিয়েছে। পাক সংবাদপত্র ‘ডন’-এর দাবি, দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর চিত্রল এবং বাজাউর সেক্টরে আফগানিস্তানের সেনাঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
আফগানিস্তানের পাল্টা দাবি, তাদের প্রত্যাঘাতে ৫ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েক জন পাক সেনাকে জীবিত অবস্থায় বন্দি করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। কাবুলের দাবি, পাক হানায় আট তালিব যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১১ জন।