Pakistan-Afghanistan Clash

আমেরিকার তৈরি বাগরাম বিমানঘাঁটি এ বার পাক নিশানায়! আকাশপথে হামলা তালিবানের অস্ত্রসম্ভারে

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর লন্ডনে গিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, বাগরাম বিমানঘাঁটি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। কিন্তু আফগানিস্তানের তালিবান সরকার পত্রপাঠ সেই সম্ভাবনা খারিজ করেছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:২০
Share:

আফগানিস্তানে পাক বিমান হামলা। ছবি: রয়টার্স।

পড়শি দেশ ইরানে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথবাহিনী। উত্তেজনার এই আবহেই নতুন করে আফগানিস্তানে হামলা চালাল পাকিস্তান। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তাদের নিশানা রাজধানী কাবুলের অদূরে বাগরাম বিমানঘাঁটি। ২০০১-২০২১ যা ছিল আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সদর দফতর।

Advertisement

পাকিস্তান সেনার সূত্র উদ্ধৃত করে বুধবার পাকিস্তানের সরকারি টিভি চ্যানেল পিটিভি একটি এক্স পোস্টে লিখেছে— ‘‘পাকিস্তান বাগরাম বিমানঘাঁটিতে একটি বড় হামলা চালিয়েছে। আফগান তালিবানের আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে। আফগান তালিবানের অকারণ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী স্থল ও আকাশ অভিযান অব্যাহত রাখবে।’’ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে পিটিভি-র দাবি, বাগরাম বিমানঘাঁটির একটি হ্যাঙ্গার (বিমান রাখার জায়গা) এবং দু’টি গুদাম পাকিস্তানি হামলায় ধ্বংস হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ৫০টিরও বেশি বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে পিটিভি-র দাবি। সেগুলিতে আফগান তালিবান বাহিনীর অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল, রকেট লঞ্চার এবং দূরপাল্লার মর্টার, হালকা ও ভারী কামান এবং ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ির বহর ছিল বলে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে। বাগরাম ঘাঁটিতে হামলায় ‘সোয়ার্ম ড্রোন’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে কয়েকটি পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

Advertisement

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার-পর্বের মধ্যেই ২০২১ সালের ১৫ অগস্ট কাবুল দখল করেছিল তালিবান বাহিনী। তার দিন কয়েক পরে বাগরাম ঘাঁটিও হাইবাতুল্লা আখুন্দজাদার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ফেলে যাওয়া যুদ্ধ হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া গাড়ি, কামান এবং নানা অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামও সে সময় দখল করেছিল তালিবান। ঘটনাচক্রে, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর লন্ডনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তালিবানশাসিত আফগানিস্তান নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘হিন্দুকুশের কোলের দেশটির বাগরাম বিমানঘাঁটি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা আমেরিকার স্বার্থের জন্য খুবই জরুরি।’’

ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের সময় তাঁর পাশেই ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। কিন্তু আফগানিস্তানের তালিবান সরকার পত্রপাঠ সেই সম্ভাবনা খারিজ করেছিল। বাগরামের প্রতি পেন্টাগনের আগ্রহের কারণও লন্ডনে ব্যাখ্যা করেছিলেন ট্রাম্প। জানিয়েছিলেন, সেখান থেকে সরাসরি চিনের পরমাণু কর্মসূচির উপর নজর রাখতে পারবে আমেরিকা। কারণ, হিন্দুকুশের কোলের দেশটির সীমান্ত লাগোয়া এলাকাতেই নাকি রয়েছে বেজিঙের পরমাণু অস্ত্রের কারখানা। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘‘বেজিঙের পরমাণু হাতিয়ার তৈরির জায়গাটার দূরত্ব বাগরামের থেকে এক ঘণ্টারও কম।’’ কৌশলগত দিক থেকে তাই আমেরিকা এ-হেন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ পেতে চাইছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নাঙ্গরহর এবং পকতিকা প্রদেশের কয়েকটি জায়গায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তান। সেই হামলায় ১৯ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পাক সেনার দাবি, আফগানিস্তানে সক্রিয় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তালিবান সেই অভিযোগ উড়িয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের হত্যার অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর থেকে দফায় দফায় ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় পাক সেনা এবং আফগান বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আফগান তালিবান জানিয়েছে, তারা প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। অন্য দিকে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে স্থল এবং আকাশপথে ডুরান্ড লাইনের ওপারে নতুন করে হামলা শুরু করেছে পাক বাহিনী। সেই অভিযানের নাম ‘অপারেশন গজ়ব লিল হক’। ২৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ ডুরান্ড লাইনের অন্তত ৫৩টি স্থানে এ পর্যন্ত দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement