পাকিস্তানের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। —ফাইল চিত্র।
বালোচ বিদ্রোহীদের খোঁজে গোটা বালোচিস্তান জুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পাকিস্তানি সেনা। রবিবার রাতে আরও ২২ বালোচ বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে পাকিস্তানি বাহিনী। গত শনিবার থেকে এখনও পর্যন্ত ১৭৭ জন বালোচ বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়েছে পাক নিরাপত্তাবাহিনী অভিযানে।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী মহসিন নকভি বলেন, “বালোচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় রাতে অভিযান চালিয়ে আরও ২২ জন বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে। এর ফলে মোট ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনী, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ করায় বিদ্রোহীদের ঘৃণ্য উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে।”
বস্তুত, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ হল বালোচিস্তান। সেখানে এক দিকে যেমন সক্রিয় রয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ), অন্য দিকে সেখানে ঘাঁটি রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এরও। দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গেই প্রায়শই সংঘর্ষ লেগে থাকে পাকিস্তানি সেনার। গত কয়েক দিনে বারে বারে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের বালোচিস্তান। এই প্রদেশের বিভিন্ন স্কুল, ব্যাঙ্ক এবং সামরিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে এমন ১২টি জায়গায় হামলার অভিযোগ ওঠে। তাতে উঠে আসে বালোচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিএলএ-র নাম।
ইসলামাবাদের দাবি, ওই হামলাগুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ হারান ৩১ সাধারণ নাগরিকও। এর পর গত শনিবার থেকে বালোচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তানি সেনা। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই অভিযানে ১৪৫ জন বালোচ বিদ্রোহীর মৃত্যুর খবর মিলেছিল। সোমবার তা বৃদ্ধি পেয়ে হল ১৭৭।
শনিবার পাকিস্তান সেনা দাবি করেছিল, এই প্রত্যাঘাত করছে ‘ভারতের মদতপুষ্ট জঙ্গি’। পাকিস্তানের ওই বিবৃতির জবাব দিয়েছিল ভারতও। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওই অঞ্চলের মানুষজনের দাবিদাওয়ার দিকে পাকিস্তানের নজর দেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।