গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের জ্বালানিভান্ডারে টান! এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে তেল আমদানি করতে চাইছে পাকিস্তান। এই বিষয়ে সৌদি আরবের কাছে আর্জিও জানিয়েছে শাহবাজ় শরিফের সরকার। ইসলামাবাদের আর্জি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইয়ানবু বন্দর থেকে পাকিস্তানে তেল রফতানি করুক রিয়াধ (সৌদি আরবের রাজধানী)।
পাকিস্তানের দাবি, এই বিষয়ে সৌদি আরবের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস মিলেছে। রিয়াধ যদি সত্যিই ইসলামাবাদের আর্জি মেনে নেয়, তা হলে লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং আরব সাগর হয়ে তেলবাহী জাহাজ বা ট্যাঙ্কার পাকিস্তানে পৌঁছোবে। এত দিন হরমুজ় প্রণালী হয়েই পাকিস্তানে পৌঁছোত পশ্চিম এশিয়ার তেল। তুলনায় এ বার অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সৌদি আরব থেকে পাকিস্তানে পৌঁছোবে অশোধিত তেল।
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে বুধবার একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল সরবরাহ করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। ওই বিবৃতিতে এ-ও বলা হয়েছে যে, সম্প্রতি ইসলামাবাদে নিযুক্ত সৌদির রাষ্ট্রদূত নওয়াফ বিন সৈয়দ অল-মালকির সঙ্গে দেখা করেন পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক। সেখানে এই বিষয়টি নিয়ে দু’জনের কথা হয়।
হরমুজ় ওমান এবং ইরানের মধ্যে থাকা সরু একটি সমুদ্রপ্রণালী। তবে সরু হলে কী হবে, প্রতি দিন গোটা বিশ্বে রফতানিযোগ্য তেলের ২০ শতাংশ যায় এই হরমুজ় প্রণালী ধরে। সেই প্রণালী ‘সম্পূর্ণ দখল’ করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’ (আইআরজিসি) বাহিনী। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মাথায় হাত পড়েছে বিশ্বের অনেক দেশের। বর্তমানে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে রয়েছে শ’য়ে শ’য়ে জাহাজ। না-এগোতে পারছে, না-পিছোতে। ইরানের জারি করা বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই ভিড়ে রয়েছে মার্কিন জাহাজও। তবে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়।