শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে উদ্বোধন হতে চলেছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘মৈত্রী’র। ভারতের বিদেশমন্ত্রক সূত্রের খবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও হাসিনার উপস্থিতিতে এই মেগা প্রকল্পের উদ্ধোধন হতে চলেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনটিপিসি এবং বাংলাদেশের বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট সংস্থা যৌথ ভাবে এই প্রকল্পটি রূপায়নের দায়িত্বে ছিল। এই প্রকল্পে দুই দেশেরই সমান অংশীদারিত্ব আছে।
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখ দু’দিনের ভারত সফরে আসতে চলেছেন হাসিনা। হাসিনার এই সফর ভারত বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মোদী সরকারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চাইছে। কারণ পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঢাকাকে নিজেদের সবচেয়ে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ বলে মনে করছে নয়া দিল্লি। তা ছাড়া হাসিনার ভারত সফরের কিছু দিন আগেই কলকাতা থেকে জলপথে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মংলা বন্দর পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ পরীক্ষামূলক সূচনা হতে চলেছে। এই বাণিজ্যপথের সূচনা হলে উত্তর-পূর্ব ভারতে আরও দ্রুত পণ্য পরিবহণ করা যাবে। আবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি ও রফতানির পরিমাণ আরও বাড়বে।
বাংলাদেশে গমের চাহিদা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে গম রফতানিতে ছাড়পত্র দিয়েছে মোদী সরকার। বাংলাদেশ সরকারের তরফে যথেষ্ট ‘চাপ’ থাকা সত্ত্বেও তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি রূপায়ণ করা যায়নি মূলত পশ্চিমঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে। কিন্তু এর বাইরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে মসৃণ করতে কোনও চেষ্টারই খামতি রাখতে চাইছে না ভারত। নূপুর শর্মার ‘অসংবেদনশীল’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে যখন বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম-প্রধান দেশ উত্তাল, তখনও ভারত সরকারের পাশে থাকারই বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তাই পুব দিকের পড়শিকে সঙ্গে রাখার একটি ধাপ হিসাবেই হাসিনার এই সফরকে দেখছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ।