সাক্ষরিত হল স্থলসীমান্ত চুক্তি

শনিবার বিকেলে সাক্ষরিত হল ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তি। নরেন্দ্র মোদী, শেখ হাসিনা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সাক্ষরিত হয় চুক্তিটি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Advertisement

জয়ন্ত ঘোষাল

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০১৫ ১৬:০৪
Share:

চুক্তি সাক্ষরের সাক্ষী নরেন্দ্র মোদী , শেখ হাসিনা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: টুইটার।

শনিবার বিকেলে সাক্ষরিত হল ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তি। নরেন্দ্র মোদী, শেখ হাসিনা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সাক্ষরিত হয় চুক্তিটি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Advertisement

একান্ত বৈঠক হয় মোদী-মমতার মধ্যেও। দীর্ঘ ৪১ বছরের অপেক্ষার পর মে মাসে সংসদের দু’কক্ষেই সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয় ভারত-বাংলাদেশ স্থলসীমান্ত চুক্তিটি। ছিটমহল থাকায়, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ জড়িত। এ দিনের চুক্তি সাক্ষরের পর দু’ দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক ধাক্কায় অনেকটাই এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদী দু’পক্ষই।

বাংলাদেশ সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে সন্ধ্যায় যৌথ বিবৃতিতে মোদী বলেন, “আমরা দু’দেশই সীমান্ত সমস্যা মেটাতে পেরেছি। স্থলসীমান্ত চুক্তি সাক্ষরের পর ছিটমহলের মানুষের সমস্যা মিটবে বলে আশা রাখি।” মোদীর কথার রেশ টেনেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বিপাক্ষিক স্তরে খুবই ফলপ্রসু এবং খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ভারত আর্থিক ভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও ক্রমশও অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠছে। তাই দু’দেশের মধ্যে এই পারস্পারিক যোগাযোগটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

Advertisement

শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর শনিবার সকালে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দু’দিনের বাংলাদেশ সফরে এ দিন সকাল পৌনে দশটা নাগাদ ঢাকায় এসে পৌঁছয় প্রধানমন্ত্রীর বিমান।

নিয়মিত উড়ানেই গতকাল ঢাকা পৌঁছন মমতা। যদিও সেই বিমানটিকে ভিআইপির তকমা দিয়েছিল বাংলাদেশ। রাজ্যের মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস, পরিবহণ সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ সপার্ষদ মমতাকে বিমানবন্দরেও ভিআইপি অভ্যর্থনা জানানো হয়। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল। মমতা উঠেছেন র‌্যাডিসন ব্লু গার্ডেনে। মোদীর সঙ্গে তাঁকেও একই হোটেলে থাকার জন্য অনুরোধ করা হলেও পারিষদ এবং সর্বোপরি তাঁদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া থেকে দূরে থাকতে চাননি তিনি। ঢাকায় এসেও অবশ্য দৈনন্দিন রুটিন থেকে দূরে থাকছেন না মমতা। র‌্যাডিসন হোটেলের চক্রাকার লাউঞ্জে বেশ কয়েক বার হেঁটেওছেন তিনি।

হিসাব মতো এ দিন রাতেই মুখ্যমন্ত্রীর কলকাতায় ফেরার কথা। ফেরার বিমান রাত সাড়ে ন’টায়। কিন্তু রাতের অনুষ্ঠান শেষ হতে ১০টা-সাড়ে ১০টা বেজে যাওয়ার কথা। অনুষ্ঠানের মাঝখানে তিনি চলে যাবেন কি না প্রশ্ন সেটাই।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ঢাকায় পৌঁছনোর পরই এক দিন বাড়তি থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোন। ভেবে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেখ হাসিনার অনুরোধে কি সরকারি সফরসূচিতে আর এক দিন যোগ করবেন মমতা? আপাতত সে দিকেই চোখ সবার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement