US Immigration Controversy in Minnesota

প্রতিবাদী যুবককে ‘আত্মরক্ষার্থে গুলি’! কী ঘটেছিল মিনেসোটায়? বিতর্কে মার্কিন অভিবাসন দফতর

অভিযানবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে ফের গুলি চালাল মার্কিন অভিবাসন দফতর। শনিবার তাদের গুলিতে মিনিয়াপোলিসে এক প্রতিবাদী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ পথে নেমেছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১২
Share:

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় যুবকের মৃত্যুর পর আইসিই বিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স।

আমেরিকার অভিবাসন দফতরকে নিয়ে বিতর্ক থামছে না। সম্প্রতি বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে দু’বছরের এক শিশুকে আটক করেছিল তারা। এ বার তাদের অভিযানবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে গুলিও চালিয়ে দেওয়া হল! নিহত হলেন এক প্রতিবাদী যুবক। আমেরিকার মিনেসোটা প্রদেশের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসন দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। পথে নেমেছেন বহু মানুষ।

Advertisement

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম থেকেই কঠোর নীতি নিয়েছেন। সেই মতো মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক দফতর (আইসিই) লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে মিনিয়াপোলিসে। শনিবার তেমন অভিযানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক জন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের বর্ণনা অনুযায়ী, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েছিলেন ৩৭ বছরের অ্যালেক্স প্রেটি। স্থানীয় একটি হাসপাতালে কাজ করতেন তিনি। অভিযোগ, প্রতিবাদীদের উদ্দেশ করে প্রথমে পেপার স্প্রে করেন আইসিই আধিকারিকেরা। অ্যালেক্স তাতে বাধা দিতে গেলে একাধিক আধিকারিক তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রথমে অ্যালেক্সকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। তার পর এক আধিকারিক গুলি চালান। রাস্তার উপর দীর্ঘ ক্ষণ পড়ে ছিল অ্যালেক্সের নিথর দেহ। এই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আনন্দবাজার ডট কম তার সত্যতা যাচাই করেনি।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এই ঘটনার পর বিবৃতিতে জানিয়েছে, আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিলেন আইসিই আধিকারিক। অ্যালেক্সের হাতে বন্দুক ছিল। যদিও স্থানীয় এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা এই বক্তব্য মানতে চাননি। এই নিয়ে চলতি মাসে মিনিয়াপোলিসে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দ্বিতীয় মৃত্যু হল। অ্যালেক্স গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরেই মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। মুখে মাস্ক পরা এজেন্টদের বিরুদ্ধে স্লোগানে স্লোগানে ছেয়ে যায় রাস্তাঘাট। প্রতিবাদীদের দমনের জন্য টিয়ার গ্যাস এবং ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

ট্রাম্পের অভিবাসন দফতরের এই অভিযানের বিরুদ্ধে মিনেসোটার প্রাদেশিক সরকার প্রথম থেকেই সরব। গত ৭ জানুয়ারি একই ধরনের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন আর এক যুবক। সে বারও আত্মরক্ষার অজুহাত দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। মিনেসোটার পুলিশকে এই অভিযানে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। খুনের ঘটনাগুলির তদন্তও করতে দেওয়া হয়নি স্থানীয় পুলিশকে। তারা জানিয়েছে, অ্যালেক্সের কাছে পিস্তলের লাইসেন্স ছিল। মিনিয়াপোলিসের মেয়র থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতারা আইসিই অভিযান বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement