Israel Lebanon Deal

‘শত্রু’ ইজ়রায়েলের কাছে কেন নতিস্বীকার! চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, অশান্তি লেবাননের রাস্তায়

ইজ়রায়েলের সঙ্গে লেবাননের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে শুক্রবার, ওয়াশিংটনে। ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১০:২০
Share:

ইজ়রায়েলের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে বেইরুটের রাস্তায় বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স।

আমেরিকার মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতির চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইজ়রায়েল এবং লেবানন। তাতেই দ্বিধাবিভক্ত লেবাননের নাগরিকেরা। এক দল চুক্তিকে সমর্থন করছেন। তবে অনেকেই চুক্তির বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। তাঁরা মনে করছেন, এই চুক্তি আসলে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের কাছে নতিস্বীকার করে নেওয়ার সমান। দেশের অভ্যন্তরে ‘শত্রু’ শক্তির ক্ষমতাকে এই চুক্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।

Advertisement

ইজ়রায়েলের সঙ্গে লেবাননের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে শুক্রবার, ওয়াশিংটনে। ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। চুক্তিতে বলা হয়েছে, লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে নিরস্ত্র করতে হবে। তার পরিবর্তে লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নেবে ইজ়রায়েল। সেই স্থানে দেশের ভূখণ্ডে লেবাননের সেনার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। হিজ়বুল্লা প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল, এই চুক্তি তারা মানবে না। তার শর্ত বাস্তবায়নেও কোনও সহায়তা করা হবে না। ইজ়রায়েল-লেবাননের চুক্তি আপাতত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কবে থেকে তার বাস্তবায়ন শুরু হবে, স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

শনিবার থেকে লেবাননে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজধানী বেইরুটে বহু তরুণ-তরুণী চুক্তির বিরুদ্ধে মিছিল করছেন। টায়ার জ্বালিয়েও বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে সরকারি নীতির বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীরা মূলত হিজ়বুল্লার সমর্থক। কারও কারও হাতে হিজ়বুল্লার পতাকাও দেখা গিয়েছে। তাঁদের মতে, চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের দাবির কাছে নতিস্বীকার করছে লেবানন। এতে দেশের অন্দরেও বিভাজন তৈরি হচ্ছে। লেবাননের সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, দাবি বিক্ষুব্ধদের।

Advertisement

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তার প্রতিবাদেই ইজ়রায়েলে হামলা চালায় হিজ়বুল্লা। তাদের দমন করতে এবং দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ইজ়রায়েলি সেনা লেবাননে ঢুকে পড়ে। মার্চের শুরু থেকে এখনও সেই ভূখণ্ড বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দখলে রয়েছে। ইজ়রায়েলের সঙ্গে চুক্তি সমর্থন করছেন লেবাননের বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, এর মাধ্যমে লেবাননে ইরানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমবে। হিজ়বুল্লার দাপটও খর্ব হবে।

ইজ়রায়েল হিজ়বুল্লার সংঘর্ষে গত কয়েক মাসে লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত এবং নিখোঁজ বহু। অনেকে ঘরছাড়া হয়েছেন। আমেরিকার মধ্যস্থতায় ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সেই ভূখণ্ডেই শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তার বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত। অন্য দিকে, সংঘর্ষবিরতির মউ স্বাক্ষর সত্ত্বেও ইরান এবং আমেরিকা ফের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ় প্রণালীকে কেন্দ্র করে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement