— প্রতীকী চিত্র।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত অনেক আসামিকেই বেকসুর খালাস করেছে এ দেশের আদালত। এঁদের মধ্যে তিন জন এ বারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জিতেছেন। এই তিন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত দু’জনের বিরুদ্ধে ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যা পড়শি ভারতের উদ্বেগ বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে কূটনৈতিকশিবিরের একাংশ।
এই তিন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে দু’জন বিএনপি এবং এক জন জামায়াতে ইসলামীর হয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। এঁরা হলেন বিএনপি-র লুৎফোজ়্জ়ামন বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু এবং জামাতের এটিএম আজ়হারুল ইসলাম। বাবর নেত্রকোণা-৪ কেন্দ্রে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার ভোট পেয়ে জিতেছেন। টাঙ্গাইল-২ কেন্দ্র থেকে ২ লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়ে জিতেছেন পিন্টু। অন্য দিকে, আজ়হারুল জিতেছেন রংপুর-২ কেন্দ্র থেকে। প্রাপ্ত ভোট প্রায় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার।
২০০৪ সালের অগস্টে ঢাকায় গ্রেনেড বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল কমপক্ষে ২৪ জনের। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছিল বাবর এবং পিন্টুকে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আদালত এই মামলায় এঁদের সকলকে বেকসুর খালাস করে। পিন্টু ও বাবরের বিরুদ্ধে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার দীর্ঘ অভিযোগও রয়েছে। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ হুজি জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার অভিযোগ ছিল পিন্টুর বিরুদ্ধে। ২০০৬ সালে বারাণসীতে, ২০০৭ সালে অজমের শরিফ দরগা এবং ২০১১ সালে দিল্লিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় হাত ছিল এই হুজি গোষ্ঠীর।
অন্য দিকে, জামাতের জয়ী প্রার্থী আজ়হারুলের বিরুদ্ধে ১৯৭১-এর মুক্তি যুদ্ধের সময়ে বারোশোরও বেশি মানুষকে খুনের অভিযোগ ছিল। অন্তত ১৩টি ধর্ষণের মামলাও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছিল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে