Blast in Pakistan

পাকিস্তানের বিয়েবাড়িতে হঠাৎ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ! নাচগানের মাঝেই আচমকা হামলায় নিহত পাঁচ, নেপথ্যে কি তালিবান?

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তান পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা এক তালিব এবং শান্তি কমিটির সদস্য। তাই মনে করা হচ্ছে, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১০
Share:

পাকিস্তানের বিয়েবাড়িতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: সংগৃহীত।

বিয়েবাড়িতে হাসিঠাট্টায় ব্যস্ত ছিলেন অতিথিরা। চলছিল খানাপিনা, নাচগান। তার মধ্যেই আচমকা প্রবেশ করে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটাল এক জন। আনন্দ নিমেষে বদলে গেল বিষাদে। বিয়েবাড়ির মেঝেতে পড়ে থাকল চাপ চাপ রক্ত। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার ঘটনা। ওই বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচ জন। আহত প্রায় ২৫ জন। প্রশাসনের সন্দেহের তির তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের দিকে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তান পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা এক তালিব এবং শান্তি কমিটির সদস্য।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ঘটেছে সরকার সমর্থিত শান্তি সংগঠনের প্রধান নুর আলম মেহসুদের বাড়িতে। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খান জেলায় তাঁর বাড়ি। আত্মঘাতী বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেরা ইসমাইল খান জেলা পুলিশের আধিকারিক সাজ্জাদ আহমেদ সাহিবজ়াদা। এই ঘটনায় বিয়েবাড়িতে আতঙ্ক ছড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিয়েবাড়িতে নাচগান চলছিল। সে সময় আচমকা বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ে ছাদ। ভগ্নস্তূপে আটকে পড়েন বহু অতিথি। উদ্ধার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় পুলিশ এবং দমকলকে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক জন ‘ভাল তালিব’। যে তালিবেরা আত্মসমর্পণ করেন, তাঁদের পাকিস্তানে বলা হয় ‘ভাল তালিব’। বিস্ফোরণের পরে আহতদের দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ভর্তি কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন শান্তি কমিটির নেতা ওয়াহিদুল্লা মেহসুদ ওরফে জিগরি মেহসুদ।

Advertisement

এখনও কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রশাসনের আধিকারিকদের একাংশের সন্দেহ, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান। ‘ভাল তালিব’ এবং শান্তি কমিটির সদস্যদের তারা নিশানা করেছে বলে মনে করছেন আধিকারিকদের একাংশ।

গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এই জঙ্গি গোষ্ঠী। চলতি মাসের শুরুতেই শান্তি কমিটির চার সদস্যকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে খাইবার পাখতুনখোয়ায়। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শান্তি কমিটির দফতরে হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন সাত জন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement