Bangladesh Election 2026

বিএনপি জিতলেও নতুন সরকার গঠন সোমবারের আগে নয়! কেন ক্ষমতা হস্তান্তরে দেরি ইউনূসের? বাংলাদেশে সংবিধানে জটিলতা

অন্তর্বর্তী সরকারের হাত থেকে নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে দেরি হচ্ছে। সোমবারের আগে নতুন সরকার গঠন বা নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্ভব নয়। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৬
Share:

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। ২০ বছর পর তারা ক্ষমতায় আসতে চলেছে। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের হাত থেকে নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে দেরি হচ্ছে। সোমবারের আগে নতুন সরকার গঠন বা নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সংবিধানের কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ইউনূসের দফতরের সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠিত হতে পারে। সংসদ সদস্যেরা যে দিন শপথ নেবেন, সে দিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরা শপথ নিতে পারবেন। শপথ পাঠ করাতে পারেন দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন।

বাংলাদেশ সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। শুক্রবার গণনাশেষে দেখা গিয়েছে, ২১২টি আসনে জিতেছে বিএনপি। জামাত এবং তার জোট শরিকেরা পেয়েছে ৭৭টি আসন। অন্যদের ঝুলিতে গিয়েছে আটটি আসন। তবে ২৯৭টি আসনের ফলাফল বেসরকারি ভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। দু’টি আসনের ফলঘোষণা আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। সূত্রের খবর, ওই দু’টি আসনেও বিএনপি এগিয়ে। সরকারি ভাবে নির্বাচনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে শুক্রবার রাতে। কিন্তু নতুন সরকার গঠন আটকে রয়েছে।

Advertisement

বাংলাদেশের সংবিধান বলছে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বা তাঁর মনোনীত কেউ। কিন্তু বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অনুপস্থিত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। তার পর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। অনেকের দাবি, তিনি পলাতক। শপথ পাঠ করানোর জন্য তিনি কাউকে মনোনীতও করে যাননি। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু জেলবন্দি। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগ করলেও স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বা অন্য কেউ দায়িত্ব গ্রহণ না-করা পর্যন্ত পূর্বতন স্পিকারই পদে বহাল থাকেন। এ ক্ষেত্রে তাই শপথ পাঠ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সংবিধানে এ-ও বলা আছে, স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে ফলঘোষণার তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো না গেলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সে ক্ষেত্রে সরকারি গেজেট প্রকাশের পর তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ, সোমবার পর্যন্ত সরকার গঠনের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। এ ছাড়া এই জটিলতার সমাধানের আর কী বিকল্প আছে, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকে যদি কোনও প্রস্তাব আসে, তা-ও বিবেচনা করে দেখবেন ইউনূসেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement