রুশ তৈল শোধনাগারে ড্রেন হামলা। ছবি: রয়টার্স।
রাশিয়ার আরও একটি তৈল শোধনাগারে হামলা চালাল ইউক্রেন। এ বার সীমান্ত থেকে রাশিয়ার ২০০০ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে ধ্বংসলীলা চালাল ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন। এই নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দু’টি তৈল শোধনাগারে হামলা চালাল ইউক্রেন।
রুশ সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বার তিউমেন তৈল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার তেলের ভান্ডারগুলিতে একের পর এক হামলা চালানোর ঘটনায় ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁরা তিন হাজার কিমি দূরপাল্লার ড্রোন তৈরি করে ফেলেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই জ়েলেনস্কির এই হুমকিতে প্রশ্ন জোরালো হতে শুরু করেছে, তা হলে কি এ বার রাশিয়ার আরও ভিতরে ঢুকে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন তাঁরা? সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে হামলার রণকৌশল বদলেছে ইউক্রেন। তৈল শোধনাগারগুলিতে হামলা চালাতে সস্তার সিচেন ড্রোন ব্যবহার করছে তারা। তবে তিউমেন শোধনাগারে কী ধরনের ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
তিউমেন শোধনাগার রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বেসরকারি তেল ভান্ডার। প্রতি দিন ১ লক্ষ ৫১ হাজার ব্যারেল খনিজ তেল শোধন করা হয় এখানে। রাশিয়ার বাজারে তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এটি। গত কয়েক মাস ধরেই রাশিয়ার শক্তিকেন্দ্রগুলিকে নিশানা বানাচ্ছে ইউক্রেন। রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাসোলিনের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মস্কোতেও জ্বালানির ঘাটতির কারণে দাম প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ফলে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রসঙ্গত, দু’দিন আগেই মস্কোর একটি তৈল শোধনাগারে জোরালো ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। ওই তৈল শোধনাগার মস্কোর ৪০ শতাংশ পেট্রল এবং অর্ধেকের বেশি ডিজেলের চাহিদা পূরণ করে। রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখে ‘ধুলো’ দিয়ে সরাসরি ওই তৈল শোধনাগারে হামলা চালায় ইউক্রেন। এ বার রাশিয়ার আরও ভিতরে ঢুকে হামলা চালাল জ়েলেনস্কির দেশ।
শনিবার রাশিয়াও ইউক্রেনের বহু অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। সবচেয়ে বেশে হামলা হয়েছে জ়পোরিজ়িয়া, সুমি এবং খারকিভ অঞ্চলে। সেই হামলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৩ জন। খারকিভে একটি বসতি এলাকায় বোমাবর্ষণ করে রুশ বাহিনী। সেই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা হামলা চালাল ইউক্রেন।