কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো। ছবি: রয়টার্স।
কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এ বার চার্জ গঠন করে ফেলল আমেরিকা। মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, বিমান ধ্বংস এবং চারটি খুনের অভিযোগে চার্জ গঠন হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউলের বিরুদ্ধে ৩০ বছরেরও বেশি আগে ওঠা অভিযোগে এত দিনে চার্জ গঠন করল মার্কিন বিচার বিভাগ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে উদ্ধারকারী বিমানে হামলা চালানোর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে। ওই সময়ে ‘ব্রাদার্স টু রেসকিউ’ (আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়া ফিদেল-বিরোধীদের হাতে তৈরি একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান)-এর উদ্ধারকারী বিমান গুলি করে নামিয়েছিল কিউবার সেনা। তখন কিউবার প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফিদেল। রাউল ছিলেন সে সময়ে কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী। কিউবার সামরিক বাহিনীর অঘোষিত প্রধান।
রাউলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের তদন্তের শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। তবে ৯৪ বছর বয়সি কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাউলকে আমেরিকার আদালতে পেশ করানো যাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফিদেলের পরে ২০০৮-২০১৮ সাল পর্যন্ত কিউবার প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাউল। তার পরে ২০২১ সালে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানের পদ থেকেও অবসর নেন তিনি। তবে তিনি নেপথ্যে থেকে এখনও কিউবাকে নিয়ন্ত্রণ করেন বলে মনে করা হয়। সংবাদসংস্থা এপি জানাচ্ছে, রাউলের বিরুদ্ধে আনা খুন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগগুলি প্রমাণিত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাঁকে সশরীরে মার্কিন আদালতে হাজির করানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে।
আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এ প্রসঙ্গে বলেন, “তাঁর (রাউলের) বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাই আমরা আশা করছি যে, তিনি স্বেচ্ছায় অথবা অন্য কোনও উপায়ে আদালতে হাজির হবেন।” রাউলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই কিউবাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, কিউবাকে ‘মুক্ত করছে’ আমেরিকা। এর পরে এই দ্বীপরাষ্ট্রটির ভাগ্যে কী রয়েছে, তা তিনি এখনই বলতে পারছেন না বলেও জানান ট্রাম্প। যদিও এই মন্তব্যের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়।
অন্য দিকে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়েজ়-কানেল এই চার্জ গঠনের নিন্দা জানিয়েছেন। আমেরিকার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ঘটনাপ্রবাহকে বিকৃত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ মিগুয়েলের। রাউলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, এর কোনও আইনি ভিত্তি নেই। পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।