(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এল ভারত এবং পাকিস্তানের প্রসঙ্গ। দু’দেশের মধ্যে কেউই এখন আর প্রকাশ্যে সংঘর্ষে জড়াতে চাইছে না। তবে ‘পারমাণবিক সংঘাত’-এর আশঙ্কা এখনও রয়েছে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে। আমেরিকার ‘ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’-এর দফতর থেকে প্রকাশিত এই রিপোর্টটি বুধবার পেশ করা হয়েছে মার্কিন সেনেটে।
গত বছর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘর্ষের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্ট। সেখানে বলা হয়েছে, ওই সংঘর্ষের পরে ভারত বা পাকিস্তান কেউই প্রকাশ্য সংঘাতের পথে যেতে চায় না। তবে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি এমন কিছু কাণ্ড ঘটিয়ে দিতে পারে, যা দু’দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতে অনুঘটকের মতো কাজ করবে।
আমেরিকার ওই ৩৪ পাতার গোয়েন্দা রিপোর্টে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পরিস্থিতির উল্লেখ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্ণনা দেওয়ার সময়ে ভারত এবং পাকিস্তানের কথা বলা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হচ্ছে, “দুই পরমাণু শক্তিধর দেশে অতীতেও সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে এখন যা সম্পর্ক, তাতে পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে। গত বছর ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের কাছে জঙ্গি হামলা স্পষ্ট করে দিয়েছে, কী ভাবে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধিয়ে দিতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ওই পারমাণবিক উত্তেজনা ঠেকানো গিয়েছে। এখন আমরা দেখছি, দুই দেশের কেউই আর প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে ঝুঁকি এখনও রয়েছে। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির কোনও কাজ দু’দেশের সংঘাতে অনুঘটকের মতো কাজ করতে পারে।”
মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে আফগানিস্তান এবং সে দেশের তালিবান সরকারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হচ্ছে, জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-খোরাসান দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও সক্রিয় রয়েছে। তবে তালিবান নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উন্নত করেছে। আইএস-খোরাসানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করছে তালিবান, সে কথাও উল্লেখ রয়েছে। সঙ্গে এ-ও বলা হয়েছে, তালিবানের ব্যাপক অভিযানের ফলে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর বেশ কয়েক জন নেতা অন্য প্রতিবেশী দেশগুলিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্য দিকে পাকিস্তান কিছু অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চালাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে রিপোর্ট। সেখানে বলা হচ্ছে, ইসলামাবাদ এমন ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছে যা তাদের দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও কোনও নিশানায় আঘাত হানতে সাহায্য করবে। এই ধারা চলতে থাকলে তা আমেরিকার জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠবে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টটিতে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কথাও উল্লেখ রয়েছে।