US Iran Conflict

সুইৎজ়ারল্যান্ডে পিছিয়ে গেল আমেরিকা-ইরানের বৈঠক! সফর হঠাৎ বাতিল করে দিলেন ভান্স, শান্তির পথে ফের বাধা?

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সুইৎজ়ারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল রাতেই। কিন্তু তিনি সফর বাতিল করে দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের তরফে বিবৃতি দিয়ে সে কথা জানানো হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১৪:৪৭
Share:

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সুইৎজ়ারল্যান্ডে শুক্রবার আলোচনায় বসছে না আমেরিকা এবং ইরান। হঠাৎ সেই বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সুইৎজ়ারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার রাতেই (আমেরিকার সময় অনুযায়ী)। কিন্তু সফর তিনি বাতিল করে দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের তরফে বিবৃতি দিয়ে সে কথা জানানো হয়েছে। তা ছাড়া, পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন সুইস কর্তৃপক্ষও। কবে ওই বৈঠক ফের হবে, তা অনিশ্চিত। নতুন কোনও তারিখও ঘোষণা করা হয়নি।

Advertisement

গত রবিবার মধ্যরাতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে বলে ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। দুই দেশই সেই খবর নিশ্চিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রাথমিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তার আগে সমঝোতার স্মারকলিপিতে (মউ) স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বৃহস্পতিবার জানান, তিনি মউ স্বাক্ষরকে অনুমোদন দিয়েছেন। তা ছাড়া, হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের পণ্যের উপর থেকে অবরোধও তুলে নিয়েছিল আমেরিকা। তার পরেও শুক্রবারের আলোচনা কেন পিছিয়ে দেওয়া হল, স্পষ্ট নয়।

সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইরানের বৈঠক আয়োজন করতে তারা সদা প্রস্তুত। যে রিসর্টে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানেও প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনাটি পিছিয়ে গিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘এই সমঝোতার প্রক্রিয়া কখনওই সহজ ছিল না। প্রথম থেকেই এতে অনিশ্চয়তা ছিল।’’ তবে কী কারণে বৈঠক শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, জানায়নি কোনও পক্ষ।

Advertisement

ইরানের তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বৃদ্ধির পর ইরান জানিয়েছিল, তা প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত। তবে তাদের তরফে কারা সুইৎজ়ারল্যান্ডে আসবেন, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। তেহরানের বক্তব্য ছিল, অন্তর্বর্তী এই চুক্তির শর্ত আমেরিকা বাস্তবে কী ভাবে পালন করছে, তা আগে দেখা দরকার। তার পরেই তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবে।

ইরান-আমেরিকা সমঝোতার পথে অন্যতম ‘কাঁটা’ ইজ়রায়েল। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ জারি রয়েছে। শান্তিচুক্তি ঘোষণা হওয়ার পরেও হিজ়বুল্লা চার জন ইজ়রায়েলি সৈনিককে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। তার জবাবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে পর পর বোমাবর্ষণ করে। তাতে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ইরান জানিয়েছিল, শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হিসাবে লেবাননে ইজ়রায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সেখানে এখনও উত্তেজনা রয়েছে। ইজ়রায়েলের আচরণ চুক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। ইতিমধ্যে একাধিক বার আমেরিকা সতর্ক করে দিয়েছে নেতানিয়াহুকে। তার মধ্যেই সুইৎজ়ারল্যান্ডের আলোচনা পিছিয়ে গেল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement