US-Iran Conflict

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে সম্মত আমেরিকা এবং ইরান, তবে এখনও অনুমোদন দেননি ট্রাম্প, থাকছে কোন কোন শর্ত?

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখন সেই অনুমোদন দেবেন বা আদৌ দেবেন কি না, তা বলা শক্ত বলে জানিয়েছেন ভান্স।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১০:০৮
Share:

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদবৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হল আমেরিকা এবং ইরান। তবে দু’পক্ষের তরফেই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখন সেই অনুমোদন দেবেন বা আদৌ দেবেন কি না, তা বলা শক্ত বলে জানিয়েছেন ভান্স।

Advertisement

অন্য দিকে, ইরানের সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম’ দু’পক্ষের সমঝোতার বিষয়ে ওয়াকিবহাল একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আলোচনা অনেকটা এগোলেও কোন কোন শর্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়বে, তা চূড়ান্ত হয়নি। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির আবার দাবি, চুক্তি তখনই চূড়ান্ত হবে, যখন তেহরানের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে তা ঘোষণা করা হবে। ট্রাম্প একপাক্ষিক ভাবে ঘোষণা করে দিলেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না বলে জানানো হয়েছে তাদের প্রতিবেদনে।

তবে দু’পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে তুলনায় অধিক দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে পারে আমেরিকা এবং ইরান। এই সময়ের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলি নিয়েও চূড়ান্ত বোঝাপড়া সেরে ফেলতে পারে দুই দেশ। একাধিক সূত্রের দাবি, বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে এখনও ঐকমত্য তৈরি না-হলেও কিছু ক্ষেত্রে পরস্পরের দাবি মেনে নিয়েছে দু’পক্ষই।

Advertisement

‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত নতুন চুক্তি হলে অবরোধমুক্ত হবে হরমুজ় প্রণালী। ইরান যেমন ওই প্রণালী ধরে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উপর শুল্ক আরোপ করবে না, তেমনই আমেরিকাও তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে। এর পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ়ের তলায় রেখে দেওয়া মাইন সরিয়ে ফেলবে ইরান।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অ্যাক্সিওস এবং নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মালিকানা ছেড়ে দেবে কি না, তা নিয়ে ৬০ দিন ধরে আলোচনা চালাবে আমেরিকার সঙ্গে। সেখানে দু’পক্ষের বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের উপর থেকে যাবতীয় নিষেঝাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে পারে আমেরিকা। এমনকি তেহরানের আর্জি মেনে বাজেয়াপ্ত সম্পদও ইরানের হাতে তুলে দিতে পারে আমেরিকা। যদিও নিই ইয়র্ক টাইম্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিখিত বোঝাপড়া না-হলেও এই সংক্রান্ত বিষয়ে মৌখিক আপসরফার পথে হাঁটতে পারে দু’পক্ষ। প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধ থামানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে খবর। ইজ়রায়েল অবশ্য এখনও লেবাননের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে নিশানা করে সে দেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রস্তাবিত চুক্তির চমকপ্রদ বিষয়টি এই যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে আমেরিকা। ইরানের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স জানিয়েছে, পুনর্গঠন প্রকল্পে ৩০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারে আমেরিকা। ওই সংবাদমাধ্যমের অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তেল সংস্থাগুলিতে অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য মার্কিন সংস্থাগুলিকে আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement