হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝে এই সরু প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইরানের জলসীমা থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। সব মার্কিন জাহাজের উদ্দেশে এই সতর্কবার্তা দিয়ে রাখল আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটির সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমেরিকার জাহাজগুলির উদ্দেশে এই সতর্কবার্তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার জাহাজ চলাচল নিয়ামক সংস্থা ইউএস মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (মারাড) সোমবার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের সময়ে আমেরিকার জাহাজগুলি যেন ইরানের জলসীমা থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকে।
বস্তুত, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশগুলির বাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হল হরমুজ় প্রণালী। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝের এই সরু প্রণালী দিয়ে আমেরিকা-সহ বহু দেশের বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। এই প্রণালীর এক দিকে রয়েছে ইরান, অন্য দিকে রয়েছে ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝে সম্প্রতি এই প্রণালীতে যুদ্ধমহড়া সেরেছে ইরানের নৌবাহিনী। সাম্প্রতিক এই ঘটনার মাঝে এ বার মার্কিন জাহাজগুলিকে সাবধান করে দিল মারাড।
একই সঙ্গে জাহাজের ক্যাপ্টেনদের উদ্দেশে এ-ও বলা হয়েছে, তাঁরা যেন ইরানি বাহিনীকে মার্কিন জাহাজে ওঠার অনুমতি না দেন। তবে যদি কোনও কারণে ইরানি বাহিনী আমেরিকার জাহাজে উঠে যায়, তবে তাদের জোর করে বাধা না দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালী ধরে পূর্ব দিকে (আরব সাগরের দিকে) যাওয়ার সময়ে ওমানের জলসীমা ঘেঁষে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তেজনার মাঝেই গত সপ্তাহে ওমানে আলোচনায় বসেছিল আমেরিকা এবং ইরান। আলোচনার প্রাথমিক পর্বে আমেরিকার কাছে বেশ কিছু দাবি রেখেছে তারা। দু’দেশের মধ্যে আলোচনার দরজা খুললেও উত্তেজনা কাটেনি। রবিবারই ইরানের রাজধানী তেহরানে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী দাবি করেন, ওমানে আয়োজিত পরোক্ষ সমঝোতা-বৈঠক চলছে বটে, কিন্তু তাকে আমেরিকা আদৌ খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। ইরানের পরমাণু পরিকল্পনা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না, জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। একই সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তিনি। আব্বাস বলেন, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে আমেরিকার সেনা মোতায়েনে আমরা একেবারেই ভয় পাই না।’’