Iran School Attack

ইরানের স্কুলে মৃত্যুমিছিলে দায়ী কে? আমেরিকার তদন্তেই উঠছে আমেরিকার নাম! জেনেশুনেই কি স্কুলে হামলা মার্কিন বাহিনীর

আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর (বর্তমানে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলার তদন্ত করছে। প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বুধবার দাবি করেছেন, আমেরিকা ইচ্ছাকৃত ভাবে সাধারণ মানুষকে নিশানা করে না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৩
Share:

ইরানের মিনাবে মেয়েদের স্কুলে হামলার পর গণকবর। ছবি: রয়টার্স।

ইরানের মিনাব শহরে মেয়েদের একটি স্কুলে বোমা ফেলা হয় গত শনিবার। তেহরানের দাবি, বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ১৫০ জনের, অধিকাংশই শিশু। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী শনিবার ইরান আক্রমণ করেছিল। কাদের হামলায় এই স্কুলে বোমা পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংবাদসংস্থা রয়টার্স মার্কিন সরকারি সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, আমেরিকার তদন্তেই এ বিষয়ে আমেরিকার নাম উঠে আসছে। অর্থাৎ, আমেরিকাই বোমা ফেলেছে ইরানের স্কুলে। হোয়াইট হাউসের তরফে এখনও এ বিষয়ে মন্তব্য করা হয়নি। তবে পৃথক ভাবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকা।

Advertisement

সূত্রের খবর, আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর (বর্তমানে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলার তদন্ত করছে। প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বুধবার সেই খবর নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় হোয়াইট হাউসও কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের পর মনে হচ্ছে, আমেরিকার বোমাই পড়েছে স্কুলটির উপর। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। মার্কিন হামলার সপক্ষে কী প্রমাণ মিলেছে, কী দেখে তদন্তকারীরা এই ইঙ্গিত পেলেন, কী ধরনের অস্ত্র স্কুলটির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়েছিল, এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষ হতে আর কত দিন লাগবে, তা-ও বোঝা যাচ্ছে না।

ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে আমেরিকার হামলা বলে মনে হলেও তদন্তের অগ্রগতিতে অন্য প্রমাণও মিলছে। অভিযোগের তির ঘুরে যেতে পারে অন্য কারও দিকে। সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত শেষ করার জন্য ঠিক কী ধরনের প্রমাণের অপেক্ষা করছেন মার্কিন তদন্তকারীরা, স্পষ্ট নয়। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ইরানের দূত আলি বাহরেইনি স্কুলে ১৫০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মিনাবের ওই স্কুলপ্রাঙ্গণের কবরস্থানের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা গিয়েছে, একসঙ্গে পর পর কবর খোঁড়া হয়েছে। ছোট শিশুদের জন্য কবরের আকারও ছোট। তাতে গোঁজা ইরানের পতাকা। এই ছবি সাড়া ফেলে দিয়েছে গোটা বিশ্বে।

Advertisement

আমেরিকার দাবি, তারা জেনেশুনে কখনও নিরীহ নাগরিকদের নিশানা করে না। হেগসেথও তেমনটাই জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘অবশ্যই আমরা কখনও অসামরিক নাগরিকদের উপর হামলা চালাই না। তবে এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’’ মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োও দাবি করেছেন, আমেরিকার বাহিনী ইচ্ছাকৃত ভাবে কখনও কোনও স্কুলে হামলা চালাবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement