US-Iran Conflict

আলোচনা চায় ইরান, দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের, বললেন, ‘বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে’! কী জবাব দিল তেহরান

শনিবার সকাল থেকেই সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। তেহরান-সহ ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজ়রায়েল। পরে সেই অভিযানে যোগ দেয় আমেরিকা। পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইরানও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ২০:০২
Share:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

আবার ইরান নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিল ইরান! তবে তাদের সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের। তাঁর কথায়, ‘‘বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে।’’ যদিও ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, ইরান আলোচনার জন্য আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

Advertisement

শনিবার সকাল থেকেই সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। তেহরান-সহ ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজ়রায়েল। পরে সেই অভিযানে যোগ দেয় আমেরিকাও। দুই দেশ একযোগে হামলা শুরু করে। চার দিন ধরে চলছে সেই সংঘাত। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। শুধু তা-ই নয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজ়িজ় নাসিরজ়াদেহ্ এবং সেনাপ্রধান আব্দুল রহিম মৌসাভির মৃত্যুও হয়েছে মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি হামলায়। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী সব শেষ!

পরমাণুচুক্তি নিয়ে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে সেই আলোচনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ শুরু করে আমেরিকা। চুপ নেই তেহরানও। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন এবং ইজ়রায়েল ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলাও চালাচ্ছে ইরান। এই সংঘাতে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। আর এই পরিস্থিতিতে পরমাণুচুক্তি নিয়ে কোনও আলোচনা সম্ভব নয় বলে আগেই দাবি করেছিল ইরান। তবে ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান চেয়েছিল আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে, যা এখন আর সম্ভব নয়।

Advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবারই দাবি করেছিলেন, যদি দরকার হয় ইরানে আরও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ হামলা চালানো হতে পারে। তাতে আমেরিকার কোনও সমস্যা হবে না। ইজ়রায়েলও হামলায় মার্কিন সমর্থন পাবে। ট্রাম্প এ-ও জানান, ‘চিরকাল’ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুত রয়েছে মার্কিন বাহিনীর কাছে!

ট্রাম্প এ-ও দাবি করেছিলেন, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের সেনা অবস্থান বদল করে দেশের জনগণের কাছে আত্মসমর্পণ করবে বলে আমেরিকার আশা। তা না হলে ভেনেজ়ুয়েলার মতো নীতি ইরানের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে, জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, গত চার দিনে ইরান নিয়ে বার বার মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর তিনিই প্রথম জানান। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। সেই হুঁশিয়ারির পর ইরানকে সংযত থাকার হুমকি দেন ট্রাম্প। তাঁর হুঙ্কার, ‘‘ইরান যদি এখনও হামলা বন্ধ না করে, তা হলে এর পর এমন হামলার রাস্তায় যাব, ওরা কল্পনাও করতে পারবে না।’’ তবে হুমকি, পাল্টা হুমকির মধ্যে সংঘাত চলছেই পশ্চিম এশিয়ায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement