US Tariff War

শীর্ষ আদালতের রায় ‘অবমাননা’ করে ফের শুল্কবৃদ্ধির ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাপের! তবে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা বদল হচ্ছে না

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, “আমাদের আরও অনেক বিকল্প আছে। শুল্ক আরও বৃদ্ধি হতে পারে।” ট্রাম্প শীর্ষ আদালতের তীব্র সমালোচনা করে এই রায়কে ‘গভীরভাবে হতাশাজনক’ বলেছেন। শুধু তাই নয়, আদালতের কিছু বিচারপতির সাহসের অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৩৪
Share:

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স।

শুক্রবার আমেরিকার শীর্ষ আদালত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘আন্তর্জাতিক আমদানি শুল্ক’ বেআইনি ঘোষণা করেছে। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘সত্যিই হতাশাজনক’ বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আদালত বিদেশি স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত। এর পরেই আদালতের রায় ‘অবমাননা’ করে আরোপিত শুল্কের উপরে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক (গ্লোবাল) শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প। তাঁর হুঁশিয়ারি, তিনি আরও বেশি শুল্ক বৃদ্ধি করতে পারেন।

Advertisement

ট্রাম্প বলেন, “ধারা ২৩২-এর অধীনে সমস্ত জাতীয় নিরাপত্তা শুল্ক এবং বর্তমানে ধারা ৩০১-এর সমস্ত শুল্ক বহাল থাকবে। আজ, আমি ধারা ১২২-এর অধীনে আরোপিত স্বাভাবিক শুল্কের উপরে ১০ শতাংশ আন্তর্জাতিক (গ্লোবাল) শুল্ক আরোপের আদেশে স্বাক্ষর করব। খুব শীঘ্রই এই শুল্ক কার্যকর হবে।”

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, “আমাদের আরও অনেক বিকল্প আছে। শুল্ক আরও বৃদ্ধি হতে পারে।” ট্রাম্প শীর্ষ আদালতের তীব্র সমালোচনা করে এই রায়কে ‘গভীরভাবে হতাশাজনক’ বলেছেন। শুধু তাই নয়, আদালতের কিছু বিচারপতির সাহসের অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমি আদালতের নির্দিষ্ট কিছু সদস্যের জন্য লজ্জিত। আমাদের দেশের জন্য যা সঠিক, তা করার সাহস তাঁদের নেই।”

Advertisement

ট্রাম্প জানান, এই আবহে ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একজন মহান ব্যক্তি। তিনি অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় যতটা কঠোর ছিলেন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে ততটা কঠোর ছিলেন না।” তাঁর সংযোজন, “আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ন্যায্য চুক্তি করেছি। তাই এটি অপরিবর্তিত থাকছে।”

শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ন’জন বিচারপতির বেঞ্চ ৬-৩ ভোটের ভিত্তিতে ঘোষিত রায়ে বলেছে, ‘‘জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর এই বিশাল শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’’ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে ট্রাম্প সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে। এর পরেই শীর্ষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে ট্রাম্প অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন।

শুক্রবার রায় ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতি রবার্টস তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘‘১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে এমন কোনও ক্ষমতা দেয় না, যার মাধ্যমে তিনি একক সিদ্ধান্তে এমন একতরফা শুল্ক আরোপ করতে পারেন।’’ সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘কোন দেশে থেকে আমদানি করা কোন পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক বলবৎ করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, কংগ্রেসের।’’ ট্রাম্প সরকার নতুন শুল্পনীতির সাহায্যে আগামী ১০ বছরে ১ ট্রিলিয়ন (১ লক্ষ কোটি) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, আইইইপিএ-এর আওতায় এ পর্যন্ত সংগৃহীত শুল্কের আর্থিক অঙ্ক ১৭৫ বিলিয়ন (১৭৫০০ কোটি) মার্কিন ডলার। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, ‘‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব সময়ই অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে চড়া হারে শুল্কের বিরোধী। আমরা আদালতের রায় খতিয়ে দেখছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement