Trump Letter to Tarique

আশা করি ব‍্যবসাক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করবেন! বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেককে প্রথম চিঠিতেই ‘কাজের কথা’ ট্রাম্পের

ট্রাম্প বহু বার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি কাউকে ছেড়ে কথা বলেন না। বহু বাণিজ্যসঙ্গীর উপরে শুল্ক-কোপও বসিয়েছেন। এ বার তারেককে পাঠানো প্রথম চিঠিতেও তা বুঝিয়ে দিলেন ট্রাম্প।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪২
Share:

(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো প্রথম চিঠিতেই ‘কাজের কথা’ সেরে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারেককে নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। তবে সেই চিঠির সিংহভাগ জুড়েই রইল বাণিজ্যের কথা। তারেককে লিখলেন, “আশা করি ব্যবসাক্ষেত্রে বর্তমান গতিকে বজায় রাখতে আপনি আমাকে সাহায্য করবেন।”

Advertisement

আমেরিকায় দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে, গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যক্ষেত্র বার বার আবর্তিত হয়েছে ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্প বহু বার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি কাউকে ছেড়ে কথা বলেন না। এমনকি আমেরিকার বহু বাণিজ্যসঙ্গীর উপরে শুল্ক-কোপও বসিয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় তারেককে অভিনন্দনবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যের কথাও বুঝিয়ে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন তারেক। তাঁকে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, “আমেরিকার সাধারণ জনতার হয়ে আমি আপনাকে এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপনার মেয়াদ সফল হোক।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, আমেরিকা এবং বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকলে এবং উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে আরও মজবুত এবং সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। সে কথাও চিঠিতে লিখেছেন তিনি।

Advertisement

এর পরেই সেই ‘কাজের কথা’য় চলে আসেন ট্রাম্প। তারেককে পাঠানো চিঠিতে তিনি লেখেন, “আশা করি, পারস্পরিক (দ্বিপাক্ষিক) বাণিজ্যচুক্তির বাস্তবায়ন করে আপনি আমেরিকা এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অসাধারণ গতি বজায় রাখতে আমাকে সাহায্য করবেন। এর ফলে দু’দেশেরই কৃষক এবং শ্রমিকদের উপকার হবে।” আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাচুক্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তারেককে তিনি লেখেন, “আমি আশা করি, রুটিন প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলি সম্পন্ন করতে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং পদক্ষেপ করবেন। এর ফলে আপনার (দেশের) সেনাবাহিনী আমেরিকার তৈরি বিশ্বসেরা এবং উন্নত মানের সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবে।”

ট্রাম্প চিঠিতে লেখেন, তিনি তারেককে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চান। বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ককে আগের চেয়ে আরও উন্নত করতে চান। তারেকের উদ্দেশে ট্রাম্প লেখেন, “দু’জনে মিলে উভয় দেশকেই আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে আমাদের।” কথা প্রসঙ্গে, বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের নির্বাচনের মুখেই সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সারে আমেরিকা। বাংলাদেশি পণ্যের উপরে শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করে দেন ট্রাম্প। পরিবর্তে আমেরিকার বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশের বাজারে আরও সহজলভ্য হবে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই স্থির হয়, আমেরিকার কাছ থেকে ১৪টি বোয়িং বিমান কিনবে ঢাকা। এ বার বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এ অবস্থায় চিঠি পাঠিয়ে আগামী দিনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যক্ষেত্রের কথা তারেককে স্মরণ করিয়ে দিলেন ট্রাম্প।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement