তেহরানের রাস্তায় খামেনেইয়ের ছবি হাতে কান্না এক ইরানি তরুণীর। ছবি: রয়টার্স।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর কে হবেন সে দেশের পরবর্তী নেতা? হামলার অন্তত দু’সপ্তাহ আগে থেকে সে বিষয়ে ছক কষে রেখেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজ়া পাহলভি আলোচনায় রয়েছেন। তিনি একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে মুখও খুলেছেন। আমেরিকার সেনা ও সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
দেশ চালানোর পৃথক বন্দোবস্ত করেছে ইরান। সে দেশের সরকারি সংবাদসংস্থা রবিবার সকালে জানিয়েছে, দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান, বিচারব্যবস্থার প্রধান এবং অভিভাবক কাউন্সিলের এক আইন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে আপাতত একটি তিন সদস্যের কাউন্সিল তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তী শাসক নির্ধারিত না-হওয়া পর্যন্ত সাময়িক ভাবে এই কাউন্সিল দেশ চালাবে।
প্রাক্তন শাসক রেজ়া শাহ পাহলভির পুত্র রেজ়া ১৯৭৯ সালে তেহরানে ইসলামিক বিপ্লবে তাঁর পিতা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে থেকেই নির্বাসিত। তিনি আমেরিকায় থাকেন। শনিবার ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন খামেনেইয়ের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন, ইরানের তরফে তখনও সরকারি ভাবে সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। সেই সময়েই মার্কিন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রেজ়া বলেছিলেন, ‘‘খামেনেইয়ের সাম্রাজ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের জনগণ। হামলা ঘোষণার সময় ট্রাম্প তাঁদের উদ্দেশে ডাক দিয়ে বলেছিলেন, তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসেছে। প্রেসিডেন্ট, আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার ওই কথাগুলিই ইরানের মানুষকে শক্তি দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, আপনার কথাই সত্যি হবে। সামনে আমাদের রাস্তা হবে স্বচ্ছ। গণভোটের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন হবে, অনুমোদিত হবে। আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হবে নির্বাচন। ইরান ভোট দিলে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে যাবে।’’
ইরানে ইজ়রায়েলের বাহিনীর সঙ্গে যৌথ ভাবে হামলার পরিকল্পনা অনেক আগেই করেছিল আমেরিকা। হামলায় যদি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়, তবে কে ইরানের পরবর্তী নেতা হতে পারেন, তা নিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) অন্তত দু’সপ্তাহ আগে হিসাব কষে রেখেছিল। বলা হয়েছিল, সশস্ত্র বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ড্সের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে থেকে কেউ খামেনেইয়ের জায়গা নিতে পারেন। এ বিষয়ে সংবাদসংস্থা রয়টার্স প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে চায়নি সিআইএ।
রবিবার সকালে খামেনেইয়ের মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করেছে তেহরান। বলা হয়েছে, শনিবার সকালে নিজের অফিসে বসে কাজ করার সময় খামেনেইয়ের উপর হামলা হয়েছে। তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁর কন্যা, জামাই, নাতনিরও মৃত্যু হয়েছে। দেশে টানা ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রেভলিউশনারি গার্ড ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার ঘাঁটিগুলির উপর ‘সবচেয়ে তীব্র’ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।