(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প, শি জিনপিং (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ওয়াশিংটন এবং বেজিঙের সম্পর্ককে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ বলে বর্ণনা করলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাশাপাশি, বেজিঙে শীর্ষবৈঠক শুরুর ঠিক আগেই বললেন, ‘‘চিন-আমেরিকা সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হল তাইওয়ান। এ ক্ষেত্রে কোনও ভুল পদক্ষেপ হলে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে।’’
দুই মেয়াদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এটাই প্রথম চিন সফর। ইরান-সঙ্কটের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া অশান্তির আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তিন দিনের চিন সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হয়ে চিনে গিয়েছেন টেসলা এবং স্পেস এক্স কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং অ্যাপল প্রধান টিম কুক। প্রায় ন’বছর পরে বুধবার রাতে বেজিঙের মাটিতে পা রেখেছিলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তাঁর আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল বেজিঙের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এর সামনে। এর পরে সেখানেই শুরু হয় দ্বিপাক্ষিক শীর্ষবৈঠক।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, শীর্ষবৈঠকের আনুষ্ঠানিক সূচনার পরেই তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জিনপিং। ২০২২ সালের অগস্টে চিনের আপত্তি খারিজ করে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েনটেটিভসের তৎকালীন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন। তার পরেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সে সময় ধারাবাহিক ভাবে তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করেছিল চিনা যুদ্ধবিমান। চিন-তাইওয়ান সঙ্কটের আবহে সে সময় আমেরিকার সপ্তম নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান প্রণালীতে ঢুকেছিল সে সময়। বেজিঙের কমিউনিস্ট শাসকবর্গ বরাবরই গণতান্ত্রিক ‘দ্বীপরাষ্ট্র’ তাইওয়ানকে ‘চিনের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড’ বলে দাবি করেছে।
ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ-পাল্টা অবরোধের ফলে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট অন্যতম আলোচ্যসূচি বলে জানিয়েছে সিএনএন। ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হোয়াইট হাউসের এক কর্তা প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘‘ট্রাম্প এবং জিনপিং একমত হয়েছেন যে হরমুজ় প্রণালী খোলা রাখতে হবে।” ইলন এবং কুকের মতো ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি ওয়াশিংটন-বেজিং বাণিজ্যকে নতুন মাত্রা দেবে বলেও ওই সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি। পাশাপাশি, বিরল খনিজের সরবরাহ, যৌথ উদ্যোগে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক বাজার গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলিও এসেছে দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠকে।