ঢাকায় গণহত্যার দায়ে প্রাণদণ্ড সাবেক মন্ত্রীর

একাত্তরে গণহত্যা, লুঠপাট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রাক্তন মুসলিম লিগ নেতা সৈয়দ মহম্মদ কায়সারকে আজ ফাঁসির আদেশ দিল ঢাকার যুদ্ধাপরাধ আদালত। কায়সার জেনারেল হুসেইন মহম্মদ এরশাদের আমলে বাংলাদেশের মন্ত্রীও হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা ১৬টি অভিযোগের ১৪টিই প্রমাণ হয়েছে বলে আজ বিচারক রায়ে জানিয়েছেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৩:০৩
Share:

একাত্তরে গণহত্যা, লুঠপাট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রাক্তন মুসলিম লিগ নেতা সৈয়দ মহম্মদ কায়সারকে আজ ফাঁসির আদেশ দিল ঢাকার যুদ্ধাপরাধ আদালত। কায়সার জেনারেল হুসেইন মহম্মদ এরশাদের আমলে বাংলাদেশের মন্ত্রীও হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা ১৬টি অভিযোগের ১৪টিই প্রমাণ হয়েছে বলে আজ বিচারক রায়ে জানিয়েছেন। বিচারক বলেন, কায়সার নিজে ধর্ষণে জড়িত ছিলেন, সে প্রমাণ না-মিললেও ধর্ষণের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ এলাকার গরিব সংখ্যালঘু মেয়েদের পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দিতেন, যা ‘হত্যার চেয়েও জঘন্য ও বর্বর’।

Advertisement

একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানি সেনার সঙ্গী হন কায়সার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় নিজস্ব ‘কায়সার বাহিনী’ গড়ে তুলে মুক্তিকামীদের উপরে অকথ্য নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই বাহিনীতে ৫০০ থেকে ৭০০ সশস্ত্র লোক ছিল। পাকিস্তানি বাহিনীকে পথ চিনিয়ে নিয়ে গিয়ে গ্রামে গ্রামে অত্যাচার চালাতেন মুসলিম লিগের এই নেতা। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পন করা মাত্র তিনি দেশ ছাড়েন। কয়েক বছর লন্ডনে কাটিয়ে কায়সার দেশে ফেরেন ১৯৭৫-এ শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর। এর পরে তিনি জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি-তে যোগ দেন। তার পরে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করার পরে তিনি তাঁর দল জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হন। কিন্তু তার পরে দু-দু’বার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে পরাজিত হন। কায়সারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের পরে যুদ্ধাপরাধ আদালত তাঁকে জামিনে মুক্ত রেখেই শুনানি শুরু করে। নির্যাতিত অজস্র মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। রায়ের দিন ঘোষণার কয়েক দিন আগে তাঁকে আটক করা হয়। আজ রায় ঘোষণার পরে তাঁকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

কায়সারের রায় ঘোষণার আগে থেকেই ঢাকার শাহবাগ চত্বরে ভিড় জমিয়েছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। ফাঁসির রায় প্রকাশ হতেই তাঁরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। শাসক আওয়ামি লিগও এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement