বাংলাদেশের নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৭০

বাংলাদেশের ফেরি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭০। গত কাল একটি ট্রলারের ধাক্কায় যাত্রীবোঝাই নৌকা এম ভি মুস্তাফা তলিয়ে যায় পদ্মায়। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ বহু। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, আশঙ্কা প্রশাসনের। রবিবার বেলা ১২টা নাগাদ শ’দেড়েক যাত্রী নিয়ে রাজবাড়ির পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা হয় নৌকাটি। যাত্রী সংখ্যার প্রকৃত হিসেব এখনও মেলেনি। মাঝ নদীতে একটি মালবোঝাই ট্রলার নৌকাটিকে ধাক্কা মারে। জল ঢুকতে শুরু করে তাতে। উল্টে যায় নৌকাটি।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০২:৫২
Share:

স্বজনের দেহ আঁকড়ে কান্না। সোমবার বাপি রায়চৌধুরীর তোলা ছবি।

বাংলাদেশের ফেরি দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭০।

Advertisement

গত কাল একটি ট্রলারের ধাক্কায় যাত্রীবোঝাই নৌকা এম ভি মুস্তাফা তলিয়ে যায় পদ্মায়। দুর্ঘটনায় নিখোঁজ বহু। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, আশঙ্কা প্রশাসনের।

রবিবার বেলা ১২টা নাগাদ শ’দেড়েক যাত্রী নিয়ে রাজবাড়ির পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা হয় নৌকাটি। যাত্রী সংখ্যার প্রকৃত হিসেব এখনও মেলেনি। মাঝ নদীতে একটি মালবোঝাই ট্রলার নৌকাটিকে ধাক্কা মারে। জল ঢুকতে শুরু করে তাতে। উল্টে যায় নৌকাটি।

Advertisement

উদ্ধারকাজে তদারকি করতে গত কালই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী। ট্রলারের মালিক, চালক এবং সহকারীকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ট্রলারটিকেও। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌ-পরিবহণ দফতর।

মানিকগঞ্জের ডেপুটি কমিশনার রাশেদা ফিরদৌস আজ বলেছেন, “ডুবে যাওয়া নৌকাটিকে উদ্ধারকরা গিয়েছে। কিন্তু মৃতদেহেরখোঁজে আরও কিছু দিন চলবে উদ্ধার কাজ।” তিনি আরও জানান, পুলিশও দমকলবাহিনীও দুর্ঘটনার এলাকায় নজরদারি চালাবে কয়েক দিন।তবে মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ, দুর্ঘটনার সময়ঠিক কত জন যাত্রী নৌকায় ছিলেন, হিসেব মেলেনি। নৌকাটির ধারণ ক্ষমতা ছিল সর্বাধিক ১৪০ জন যাত্রী। কিন্তু তার চেয়ে বেশি সংখ্যক যাত্রী ঘটনার সময় নৌকায় ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, সোমবার সন্ধে পর্যন্ত ৭০টি দেহউদ্ধার করা গিয়েছে, যার মধ্যে ৬৩টি দেহ তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি। সরকারি সূত্রের খবর, আরও ন’জন এখনও নিখোঁজ বলে মনেকরা হচ্ছে।

যাঁরা বরাতজোরে রক্ষা পেয়েছেন তাঁরা জানিয়েছেন, বেশ কিছু যাত্রী নৌকার কেবিনের ভিতরে ছিলেন। নৌকা ডোবার সময় তাঁরাবেরোতে পারেননি। যাঁরা বাইরে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কয়েক জন জলে ঝাঁপিয়ে সাঁতরে প্রাণে বেঁচেছেন।

পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাবে বাংলাদেশে নৌকাডুবির ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। চলতি মাসের ১৩ তারিখেই মাঝ নদীতে নৌকা ডুবে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল এক নাবালক-সহ পাঁচ জনের। গত মাসে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গিয়েছিল একটি মাছ ধরার নৌকাও। সেই দুর্ঘটনায় আট জনের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। বাংলাদেশে সব চেয়ে ভয়াবহ নৌকাডুবি হয়েছিল গত বছর অগস্ট মাসে। ওই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৩০ জন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement