তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন ধরানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ। —নিজস্ব ছবি।
এক কলেজছাত্রের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের মাটিয়া থানা এলাকা। অভিযুক্তদের আড়াল করছেন শাসকদলের নেতা, ওই অভিযোগ করে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর এবং বাইকে আগুন ধরাল উন্মত্ত জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মাটিয়া থানার চাঁপাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিথুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ২২ বছরের রিয়াজ মণ্ডল দিন চারেক ধরে নিখোঁজ ছিলেন। থানায় তাঁর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল। সোমবার স্থানীয় একটি আমবাগানের ভিতরে পরিত্যক্ত ডোবায় যুবকের দেহ উদ্ধার করেন কয়েক জন গ্রামবাসী। খবর পেয়ে অকুস্থলে ছুটে যান রিয়াজের আত্মীয়-পরিজন। তাঁদের দাবি, খুন করা হয়েছে ওই কলেজপড়ুয়াকে। তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
অন্য দিকে, রিয়াজের খোঁজ করতে গিয়ে রবিবার দুই ব্যক্তিকে আটক করেছিল মাটিয়া থানার পুলিশ। কিন্তু রিয়াজের দেহ উদ্ধারের আগে কিংবা পরে তাঁদের দু’জনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পায় মৃতের পরিবার। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সেখানকার পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা পিন্টু মণ্ডল অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছেন। মৃতের কাকা মহিদুল মণ্ডল বলেন, ‘‘আমরা গ্রামের দু’জনকে সন্দেহ করে পুলিশের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। পুলিশ তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। কিন্তু তার মধ্যে পিন্টু মণ্ডল দু’জনকে ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে। পিন্টু এবং তার দলবল আমার ভাইপোকে খুন করেছে। খুনের কারণ জানি না। আমরা দ্রুত বিচার চাই।’’ মৃতের আর এক আত্মীয় শহিদুল মণ্ডল এলাকার লোকজনকে নিয়ে স্থানীয় রাস্তা অবরোধ করে। তাঁর দাবি, খুনে ‘মূল চক্রী’ পিন্টুই।
ওই নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি একদল লোক চড়াও হয় উপপ্রধানের বাড়িতে। অভিযোগ, সেখানে ভাঙচুর চলে। তৃণমূল নেতার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
তৃণমূলের ওই নেতার খোঁজ মেলেনি। তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন দাবি স্থানীয়দের। এখন পরিস্থিতি খানিক নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় পুলিশ এবং র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত হচ্ছে।