Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

মায়ের আঁচল ক্যারমে পড়ল...ঘুঁটি উধাও!

অষ্টমীর সকালে অঞ্জলির দেওয়ার ছুতোয় হঠাৎ নজর আটকে গেল। অদৃশ্য ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরে বাজতে লাগলেন রবি ঠাকুর, ‘যে ছিল আমার স্বপনচারিণী’...!

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
কলকাতা ১৩ অক্টোবর ২০২০ ১৬:০৪
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

তখনও বড় হইনি আমি। পরিচালকও নই। তখনও আমি হাফ প্যান্ট, হাফ শার্ট। দাদা দেবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও তা-ই। ঠিকানা, বরাহনগর। ওই সময়ে কাকা প্রতি বছর একটা রিকশা ঠিক করে দিতেন। চেনা রিকশাওয়ালার ওই রিকশায় চেপে আমি আর দাদা ঠাকুর দেখতে বেরোতাম। সেই পর্ব মিটলে বাড়ি এসে পরিচ্ছন্ন হয়ে খেতে বসতাম দুই ভাই। এক থালায় মা খাবার বেড়ে দিতেন। লুচি, বাঁধাকপির তরকারি আর স্পেশ্যাল চাটনি। নিজে হাতে খাইয়ে দিতেন। তখনও আমরা কেউ আলাদা থালায় খেতাম না! বড় হয়ে কী লাভ হল? ছেলেবেলাটাই হারিয়ে গেল তো...

বরাহনগরে আরও অনেক কিছু ছিল...

আরও অনেক কিছু রেখে এসেছি বরাহনগরের বাড়িতে। পুজোর সময়ের রোল করা ক্যাপ আর বন্দুক। সময়ে-অসময়ে ঠাঁই ঠাঁই করে ফাটানো। হজমি গুলি, হাত খরচ। নতুন জামায় মা আতর মাখিয়ে দিতেন। গন্ধে ম ম করত। একটু বড় হওয়ার পরে বিসর্জনে যেতাম। ঢাক বাজানো, শোভাযাত্রায় নাচ- সবই ছিল। ঠাকুর জলে পড়লেই মন খারাপ। আসছে বছর আবার কবে আসবে?

Advertisement

অষ্টমীর সন্ধেতে তাকে দেখেছিলাম....

কলেজে পড়ছি তখন। অষ্টমীর সকালে অঞ্জলির দেওয়ার ছুতোয় হঠাৎ নজর আটকে গেল। অদৃশ্য ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরে বাজতে লাগলেন রবি ঠাকুর, ‘যে ছিল আমার স্বপনচারিণী’...! আর ছিল সন্ধে বেলার ম্যাডক্স স্কোয়্যার। কোনও বার সপ্তমী তো কোনও বার অষ্টমী...চোখে ধরতই কেউ না কেউ। সেই সময়ের পুজো-প্রেমগুলো (খেয়াল রাখুন প্রেমগুলো!) ভীষণ মজার ছিল। শুধু পুজোর সময়েই তাদের নিত্য আনাগোণা। গল্প তৈরির আগেই পুজো ফুরোল। প্রেম পালাল! জিনিয়া আসার পরে আর সে সব.....হেঁ হেঁ হেঁ।

আরও পড়ুন: বাগডোগরার প্লেনের টিকিটটা শেষ মুহূর্তেও হয়ে যেতে পারে...

শপিংয়ের প্ল্যানে থাকি, ভিড়ে থাকি না

বড় হলাম। চলে এলাম দক্ষিণ কলকাতায়। আমার আর পরিচালক নন্দিতা রায়ের অফিস উইন্ডোজ প্রোডাকশন। কেনাকাটার দায়িত্ব কাঁধে। এর আগে মায়ের সঙ্গে শপিংয়ে যেতে হত। আস্তে আস্তে সেই ঝক্কি চাপিয়ে দিলাম বয়সে যাঁরা ছোট, তাঁদের কাঁধে। কী কেনা হবে? প্ল্যানিংয়ে আছি। শপিংয়ের ভিড়ে আমি নেই!

পুজো মানেই প্রচুর শপিং। অনেক দেওয়া-থোওয়া। অফিসের সবাই আছেন। বাড়িতে দিদি, দাদা, আত্মীয়-স্বজন। ঘর সাজানোর জন্য আবার আলাদা কেনাকাটা। এ বছরই যেমন সোফা সেটের আপহোলস্ট্রি কিনব ঠিক হয়েছে। কোনও বার রান্নার বাসনের সেট কেনা হবে ঠিক হয়। আবার এমনটাও হয়, একই পরিবারের জন্য আমি-জিনিয়া কিনলাম একটি শাড়ি, মা কিনলেন আর একটি। দেওয়ার বেলায় মা চট করে পছন্দ বদলে নিলেন। বললেন, না না! ওইটা আমি দেব। আমারটা তোমরা দিও! বুঝুন অবস্থা। পুজোর অনেক আগে থেকে কিনে ফেলার পরেও ফি-বছর এটা হবেই! এটা ছাড়া শপিংয়ের মজাও যেন অসম্পূর্ণ। তবে এ বার দেওয়ার পরিমাণ একটু কম হবে। মনটা ভাল নেই কারওরই।

এখন সমস্ত শপিংয়ের দায় তিন জনের কাঁধে। মা, জিনিয়া আর নন্দিতাদি। আমি বলেই খালাস। তার চেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ পুজো রিলিজে।



সেই সময়ের পুজো-প্রেমগুলো ভীষণ মজার ছিল।

আপ রুচি পরনা...

পুজো মানেই আমার কাছে রকমারি পাঞ্জাবির সঙ্গে পাজামা। চারটে দিন যদি চার রকমের পাঞ্জাবি পরতে পারি, দারুণ খুশি। এর বাইরে ডেনিম জগার্স, টি-শার্ট বা হাফ স্লিভ শার্ট। আমি বাড়ির লোকেদের সাজাতেও ভালবাসি। জিনিয়া যখন শাড়ি পরে উৎসবের আবহে, খুব ভাল লাগে। কিংবা সন্ধেবেলায় মিডি ড্রেস। আর মা মানেই রকমারি শাড়ি। নন্দিতাদি এঁদের এক্কেবারে উল্টো। কোনও একটা পোশাক দিদির মনে ধরেছে। সেটা শাড়ি হতে পারে। হতেই পারে ড্রেস। চুপচাপ কিনে নিলেন। তার পরে বাড়ি ফিরে ঘোষণা, শিবু আমার সপ্তমী বা অষ্টমীর পোশাক কেনা হয়ে গিয়েছে। ওটা কিন্তু তুমি দিচ্ছ! কোনও ঘোরপ্যাঁচ নেই মানুষটার মনে।

হাট বসেছে পুজোর বারে

পুজো এল, আমাদের বাড়িতে যেন হাট বসল। বড়দি, ভাগ্নে, তাদের ছেলেমেয়ে আসে শান্তিনিকেতন থেকে। আর ছোড়দি, জামাইবাবু, দাদা, তাদের ছেলেপুলে। আত্মীয়দের ভিড়ে বাড়ি গমগম। সারা দিন আড্ডা আছেই। আর আছে ক্যারাম খেলা। বাব্বা! ওই খেলাটা ঘিরে যা হয় বাড়িতে! দাদার সমস্যা, ভীষণ সিরিয়াসলি নিয়ে নেয় খেলাটাকেও। তাই নিয়ে চিৎকার, চেঁচামেচি, হইচই। মা তো আরও সরেস! লুডোর মতো ক্যারামেও চোট্টামি। খেলতে খেলতে হঠাৎ মায়ের আঁচল ক্যারাম বোর্ডের উপর। তার পরেই দেখি গুটি বোর্ডের পকেটে ঢুকে গিয়েছে!

আরও পড়ুন: কলকাতার পুজোর গন্ধ গায়ে মাখতে প্রাণ ছটফটিয়ে উঠছে

এত লোক আসবেন, তাঁরা কি মুখে শুকিয়ে থাকবেন? বাঙালি বাড়িতে সেটি হওয়ার জো আছে নাকি? আমার ঠিক করা ঠাকুর প্রতি বছর এসে রেঁধে দিয়ে যান ফিশফ্রাই, মাংস, চিতল মাছের মুইঠ্যা, ডাল, ভাজা, তরকারি- বাড়িভর্তি লোক হলে যা যা হয় আর কী! শান্তিনিকেতনে যে দিদি থাকেন, তিনি আবার কলকাতার বিরিয়ানি, রোল, ধোসা মিস করেন। এক দিন তাঁকে সেইগুলো খাওয়াই। চাইনিজও বাদ যায় না। আর হ্যাঁ, রোজ সকালের জলখাবার লুচি, তরকারি।

ত্রিধারা সম্মিলনী, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ যাবই

দুটো দিন উদ্বোধক, বিচারকের ভূমিকায়। বাকিটা বাড়ির সঙ্গে থাকা। একটা দিন শ্বশুরমশাই, শাশুড়িমা, শালাবাবু অর্পণ আসেন। ওঁদের আসা মানে অবশ্যই ঠাকুর দেখা। অর্পণ পায়ে হেঁটে প্রত্যেকটা পুজো দেখতে যাবে। আবার ছবি তুলে আমায় রিপোর্ট পাঠাবে- কোনগুলো দেখার মতো। ওর দেওয়া রেটিং চার্ট দেখে কিছু খুব ভাল পুজো দেখতে মা, শ্বশুর, শাশুড়ি, জিনিয়াকে নিয়ে বেরোই দুপুর বা বিকেলে। যেমন, দেবাশিস কুমারের ত্রিধারার পুজো, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ যাবই। আর একটি দিন বন্ধুদের জন্য ডেডিকেটেড। সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজোতেও একটি দিন বাঁধা।

এ বছরের পুজোটা যদিও বড্ড বিষন্ন। নিজেদের ভাল রাখার কথা ভাবতে ভাবতেই দিন উড়ে যাচ্ছে। তবু, তার মধ্যেই যতটা কাছাকাছি সবাইকে আনা যায়, পাওয়া যায়, সেই চেষ্টাই করব। বছরের এই চারটে দিন মাথা খুঁড়লেও যে বাকি বছরটায় ফিরিয়ে আনা যাবে না!



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement