আপনার ত্বক কি তৈলাক্ত? পুজোর মরশুমে যত্ন নেবেন কী ভাবে?
পুজোর সময়ে প্রচুর পরিমাণে জল ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান। শরীর সুস্থ থাকলে ত্বকের জেল্লাও বাড়বে।
পুজোয় সারা ক্ষণ মেকআপ ঠিক মতো ধরে রাখা এবং একইসঙ্গে ত্বককে সতেজ রাখা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেশ কঠিন। সঠিক পরিচর্যার অভাবে এই সময়ে ত্বক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দিনভর উজ্জ্বল এবং তরতাজা লুক পেতে জেনে নিন কিছু জরুরি টিপ্স।
ত্বক পরিষ্কার রাখা: তৈলাক্ত ত্বকের মূল সমস্যা হল অতিরিক্ত তেল। তাই রোজ অন্তত দু'বার ভাল মানের জেল-বেস্ড বা ফোমিং ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এতে অতিরিক্ত তেল এবং ধুলো-ময়লা দূর হবে।
টোনার ব্যবহার: মুখ ধোওয়ার পরে অ্যালকোহল-ফ্রি টোনার ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রোমকূপ সঙ্কুচিত করে। টি-জোনে টোনার ব্যবহার করা খুবই জরুরি।
ময়শ্চারাইজার: অনেকে মনে করেন, তৈলাক্ত ত্বকে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করার দরকার নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-বেসড, নন-কমেডোজেনিক ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এটি ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং অতিরিক্ত তেল উৎপাদন কমায়।
মেকআপের আগে প্রাইমার: মেকআপ করার আগে ম্যাট প্রাইমার ব্যবহার করুন। এটি ত্বক মসৃণ করে এবং মেকআপ দীর্ঘ সময় ধরে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, ত্বকের অতিরিক্ত তেলও শুষে নেয়।
আরও পড়ুন:
মেকআপ সামগ্রী: পুজোর সময়ে ওয়াটার-বেসড, নন-কমেডোজেনিক ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। পাউডার ফাউন্ডেশন বা ম্যাট ফিনিশ মেকআপ ব্যবহার করলে তেল শুষে নেবে এবং চকচকে ভাব কমবে।
মেকআপ তোলার নিয়ম: রাত করে বাড়ি ফেরার পরে মেকআপ না তুলে ঘুমিয়ে পড়া সবচেয়ে বড় ভুল। মেকআপ ত্বকে ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডস তৈরি করতে পারে। তাই মাইসেলার ওয়াটার বা অয়েল-ফ্রি মেকআপ রিমুভার দিয়ে ভাল করে মেকআপ তুলে ফেলুন।
ফেস প্যাক: সপ্তাহে অন্তত দু'বার মুলতানি মাটি বা চন্দনের ফেস প্যাক ব্যবহার করুন। এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং ত্বককে ঠান্ডা ও সতেজ রাখে।
অতিরিক্ত টিপ্স: দিনে কয়েক বার ব্লটিং পেপার দিয়ে মুখের অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করুন। বেশি করে জল পান করুন। এতে ত্বক ভিতর থেকে আর্দ্র থাকবে। জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন। স্বাস্থ্যকর খাবার ত্বকের জন্য উপকারী।
আরও পড়ুন:
এই সহজ নিয়মগুলি মেনে চললে পুজোয় আপনার তৈলাক্ত ত্বকও থাকবে প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল। কোনও চিন্তা ছাড়াই উপভোগ করুন পুজোর প্রতিটি মুহূর্ত। উৎসবের সাজে জেল্লাই বলবে শেষ কথা! (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।